পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) গণপরিবহন এবং বাণিজ্যিক যানবাহনের চলাচল সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত এই বিজ্ঞপ্তিতে তিনটি প্রধান নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে, যা মহাসড়কে যানবাহনের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে মোট ছয় দিন, অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত বিশেষ ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এই সময়কালে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরীসহ বৃহৎ পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। এতে যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
বিআরটিএ ছাড়াও যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য হটলাইন নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদান করেছে। এসব নম্বরে যোগাযোগ করে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল সংক্রান্ত তাত্ক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
নির্দেশনার বিস্তারিত নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তারিখ / সময়সীমা | প্রযোজ্য যানবাহন | বিবরণ |
|---|---|---|---|
| চলাচল নিষিদ্ধ | ১৭ মার্চ – ২৩ মার্চ | ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরী | মহাসড়কে চলাচল বন্ধ থাকবে, পার্কিংও নিষিদ্ধ |
| চলাচলমুক্ত | ১৭ মার্চ – ২৩ মার্চ | খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস পণ্য, ওষুধ, সার, জ্বালানি | চলাচলে কোনো বাধা নেই |
| জরুরি যোগাযোগ | চলমান | সকল যানবাহন ও ব্যক্তি | হটলাইন: ১৬১০৭, মোবাইল: ০১৫৫০০৫১৬০৬, ০১৫৫০০৫৬৫৭৭ |
বিআরটিএ’র সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কে যান চলাচলকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখার জন্য সকল পর্যায়ে বিশেষ তদারকি করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃরাজ্য মহাসড়কে কড়া নজরদারি থাকবে।
কর্তৃপক্ষ জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করেছে, ঈদ পর্বে নিজস্ব এবং বাণিজ্যিক যানবাহন ব্যবহার করার সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট থেকে নিজেদের রক্ষা করুন।
এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হটলাইন ও মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণ করা সম্ভব।
বিআরটিএ আশা করছে, এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার মাধ্যমে ঈদকালীন যাত্রা নিরাপদ, সুষ্ঠু এবং দ্রুততর হবে।
