নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নওয়াগ্রামে ঈদের দিনের মাংস ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক করেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, ফলে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নওয়াগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইসরাইল শেখ, অন্য পক্ষের নেতৃত্বে খায়রুল মোল্যা। এই দ্বন্দ্বের জেরেই মূলত সামান্য একটি বিষয় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ঈদের দিন। ওই দিন ইসরাইল শেখের পক্ষ একটি গরু জবাই করে এবং মাংস বিতরণ করে। অভিযোগ ওঠে, খায়রুল মোল্যার পক্ষের এক সদস্যকে মাংসের ভাগ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নেয়। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয় এবং পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যায়।
অবশেষে সোমবার রাতে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ছররা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৪ জন নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী জানান, হাসপাতালে আসা ১৪ জনই ছররা গুলিতে আহত ছিলেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। তবে কয়েকজনের শরীরে একাধিক স্থানে ছররা বিদ্ধ হওয়ায় তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) রবিন হালদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | নওয়াগ্রাম, কালিয়া উপজেলা, নড়াইল |
| সময় | সোমবার রাত সাড়ে ৮টা |
| সংঘর্ষের কারণ | ঈদের মাংস ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ |
| জড়িত পক্ষ | ইসরাইল শেখ ও খায়রুল মোল্যা গ্রুপ |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ২৫ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ১৪ জন |
| আটক | ১৪ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | দেশীয় অস্ত্র ও ছররা গুলি |
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান আধিপত্যের দ্বন্দ্বই এই সহিংসতার মূল কারণ। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং সামাজিকভাবে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে।
