পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ছিল ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর। সকাল থেকেই স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের চাপ চোখে পড়ার মতো ছিল। বিশেষ করে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী ট্রেনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল অতিরিক্ত।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীসংখ্যা ট্রেনের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে সকালবেলা ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে আসনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী ছিল। ভিড়ে অনেক যাত্রীকে দরজার সামনে, সংযোগস্থলে, এমনকি ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও উঠতে দেখা গেছে।
কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের সময় যাত্রী চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়ে যায়। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হলেও সব যাত্রীকে সঠিকভাবে পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।” রেলওয়ে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা স্টেশনে ভিড় সামলাতে কাজ করছেন।
স্টেশনে উপস্থিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে দেখা গেছে, অনেকেই টিকিট না পাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে উঠছেন। চট্টগ্রামগামী মো. বশির বলেন, “অনেক চেষ্টা করেও টিকিট পাইনি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারার কষ্ট সহ্য করতে পারিনি, তাই ঝুঁকি নিয়েই ট্রেনে উঠেছি। ভিড় অনেক বেশি, দাঁড়িয়ে যেতেই হচ্ছে।”
আরেক যাত্রী মহসিনা খাতুন জানান, “শিশু নিয়ে ভ্রমণ খুবই কষ্টকর। তারপরও বাড়ি যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এই ভিড়ে উঠতে হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়ে কিছু শঙ্কা আছে।”
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদের সময় যাত্রী চাপ আরও কয়েক দিন ধরে থাকতে পারে। বিশেষ ট্রেনগুলোর তথ্য নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | গন্তব্য | সকালবেলা যাত্রী সংখ্যা | আসনসংখ্যা | অতিরিক্ত চাপ (%) |
|---|---|---|---|---|
| মহানগর এক্সপ্রেস | চট্টগ্রাম | 1,200 | 650 | 85% |
| সিলেট এক্সপ্রেস | সিলেট | 900 | 500 | 80% |
| ঢাকা-চট্টগ্রাম আন্তঃনগর | চট্টগ্রাম | 1,100 | 600 | 83% |
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও যাত্রী উভয় পক্ষই আশা করছেন, বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ আরও দু-এক দিন ধরে থাকবে। তাই স্টেশনে সময় নষ্ট না করে বৈধ টিকিট সংগ্রহ করে নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
যাত্রীদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরা স্টেশনে নজরদারি চালাচ্ছেন। নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভ্রমণ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ভিড়ের মধ্যে, পরিবার ও গ্রামের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে আসা মানুষদের জন্য স্টেশনে সহায়ক ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
