বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঈদের আগে তাদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন। কর্মসূচির মূল কেন্দ্র ছিল নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনের খোলা চত্বর, যেখানে তারা সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী উপস্থিত থেকে শ্রমিকদের পাশে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
কর্মীদের অভিযোগ
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, মাসে তারা ৩০ দিন কাজ করার পরও বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। অতীতে ঈদ ও ইফতারের জন্য আলাদা উৎসব ভাতা দেওয়া হতো, তবে এবার শুধুমাত্র বেতন দেওয়া হচ্ছে। কম বেতনে সংসার চালানো কঠিন, বোনাস না দেওয়ায় ঈদে পরিবারের মুখে এক বেলা ভালো খাবার তুলে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
কর্মী রহিম মিয়া বলেন,
“ঈদে বোনাস না পেলে আমাদের আনন্দ মাটি হবে। এটা আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায়।”
আলেয়া বেগম নামের এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন,
“কম বেতনের চাকরিতে সংসার চালানোই কঠিন, তার ওপর উৎসব ভাতা না থাকলে সন্তানদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন কিভাবে সম্ভব?”
কর্মসূচির ধারা
সমাবেশের আগে শ্রমিকরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি চকবাজার ও গির্জামহল্লা সড়ক প্রদক্ষিণ করে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। শ্রমিকরা ঘোষণা করেছেন যে, ২৭ রমজানের মধ্যে বেতন ও বোনাস না দিলে তারা সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি নেবেন।
প্রশাসনের অবস্থান
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকায় বৃদ্ধি করার গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে সেই গেজেটে উৎসব ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
| তথ্য | বিস্তারিত |
|---|---|
| বেতন | ৩০ দিনের মধ্যে ২২ দিনের বেতন প্রদান |
| উৎসব ভাতা | অন্তর্ভুক্ত নয় |
| বেতন বৃদ্ধি | ১০,০০০ → ১৬,০০০ টাকা (মজুরিভিত্তিক) |
| কর্মসূচি | সড়ক অবরোধ ও কঠোর আন্দোলন |
| সমর্থন | বাসদ বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী |
শ্রমিক নেতা সাইদুল জানান, তারা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাবি তুলেছেন। তিনি সমাধানের জন্য সময় চেয়েছেন, তবে শ্রমিকদের মধ্যে সংশয় ও অসন্তোষ কাটছে না।
মনীষা চক্রবর্তী সমাবেশে বলেন,
“প্রতিদিন যারা আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখেন, তাদের জীবন ও অধিকার দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। বছর বছর চাকরি করেও স্থায়ী করা হয়নি। ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস দিতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।”
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের এই আন্দোলন প্রমাণ করছে, নগর জীবনের নীরব নায়করা যখন মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমে আসে, তখন সারা সমাজকে তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে।
এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র বেতন-বোনাসের দাবি নয়, বরং শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা ও ঈদ উদযাপনের মৌলিক অধিকার রক্ষার প্রতীক।
