পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু হয়েছে ট্রেন ও বাসের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহের যুদ্ধ। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে বুধবার (৪ মার্চ) ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে নজিরবিহীন সাড়া পাওয়া গেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট ছাড়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের ১১ হাজার ৪০০টি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এই স্বল্প সময়ে রেলওয়ের টিকিট বিক্রয়কারী সার্ভারে প্রায় ২০ লাখ বার ভিজিট বা প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে, যা টিকিটপ্রত্যাশীদের তীব্র চাপের প্রতিফলন।
Table of Contents
ট্রেনের টিকিট বিক্রির হালচাল
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সার্ভারের ওপর চাপ সামলাতে দুই শিফটে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চলের এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, বুধবার মূলত ১৪ মার্চের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে। সকাল ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে সার্ভারে প্রবেশের চেষ্টা করায় ব্যাপক চাপের সৃষ্টি হয়। প্রথম আধাঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিটের একটি বড় অংশ শেষ হয়ে যায়।
একনজরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| টিকিট বিক্রির মাধ্যম | শতভাগ অনলাইন (App ও Website) |
| বিক্রির শুরুর সময় | সকাল ৮টা (পশ্চিমাঞ্চল), দুপুর ২টা (পূর্বাঞ্চল) |
| প্রথম ৩০ মিনিটে ভিজিটর | প্রায় ২০ লক্ষ বার |
| প্রথম ৩০ মিনিটে টিকিট বিক্রি | ১১,৪০০টি (পশ্চিমাঞ্চল) |
| বিক্রিত টিকিটের তারিখ | ১৪ মার্চের ঈদযাত্রা |
বাসের অগ্রিম টিকিট ও যাত্রী ভোগান্তি
ট্রেনের টিকিটে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর কল্যাণপুর ও গাবতলী এলাকায় কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৭ ও ১৮ মার্চের রাতের বাসের অধিকাংশ টিকিট শেষ হয়ে গেছে। ফলে বুধবার যারা কাউন্টারে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগই কাঙ্ক্ষিত সময়ের টিকিট না পেয়ে ফিরে গেছেন অথবা দিনের বেলার টিকিট সংগ্রহ করেছেন।
ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সবচেয়ে বড় অভিযোগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। গাবতলী ও কল্যাণপুর এলাকার কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ঠাকুরগাঁওগামী যাত্রী ফরহাদ উদ্দিন অভিযোগ করেন, সাধারণ সময়ে যে টিকিট ৯০০ টাকায় পাওয়া যায়, ঈদ উপলক্ষে তা ১,০৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। দিনাজপুরের যাত্রী সাব্বির হোসেন জানান, স্লিপার বাসের ভাড়া সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রাখা হচ্ছে। বাসের টিকিট কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের এই প্রবণতা ঈদযাত্রার আনন্দকে বিষাদে পরিণত করছে।
ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও সার্বিক চিত্র
রেলওয়ে ও পরিবহন মালিক সমিতি দাবি করছে, তারা যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে প্রস্তুত। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সার্ভারের ধীরগতি এবং বাসের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ১৮ মার্চের টিকিট পাওয়ার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের বিষয়ে বিআরটিএ এবং প্রশাসনের কড়া নজরদারি দাবি করছেন সাধারণ যাত্রীরা। ট্রেন ও বাসের পাশাপাশি নৌপথের টিকিট নিয়েও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একই ধরনের হুড়োহুড়ি শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
