ঈদযাত্রায় ভাড়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত

সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নিশ্চিত করেছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরের সময়ে কোনো ধরনের বাড়তি ভাড়া আদায় বা চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে তদারকি করবে যাতে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।

মন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ঈদযাত্রা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।

মন্ত্রী বলেন, “ঈদযাত্রার সময়ে কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়া যাবে না। তবে মালিক বা শ্রমিক সমিতি যদি বৈধভাবে তাদের কল্যাণ তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে, সেটিকে চাঁদাবাজি বলা হবে না। এটি তাদের নিজস্ব কল্যাণের জন্য নেওয়া।” তিনি সতর্ক করেন, “যদি কোনো সমিতি বা সংগঠন বৈধ না হয়ে স্বেচ্ছাচারীভাবে মালিক বা শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে, তা চাঁদাবাজি হিসেবে গণ্য হবে। এমন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঈদযাত্রার নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বিশেষভাবে বলেন, “ঈদের আগে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকাসহ অন্যান্য শহর ছেড়ে যাত্রা শুরু করবে। এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তবে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তৎপর থাকবে এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করা হবে।”

সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া বা অনিয়মের বিষয়ে তিনি জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে রুট পারমিট বাতিল করা হতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, হাইওয়ে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত তদারকি জোরদার করবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কে অস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিকল বা চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন সড়কে নামতে পারবে না। চলমান সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেবে যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। প্রয়োজনে বিআরটিসি অতিরিক্ত বাস প্রস্তুত রাখবে।

ঈদযাত্রায় প্রস্তুতি সংক্রান্ত তথ্য

বিষয়বিস্তারিত
প্রত্যাশিত যাত্রী সংখ্যাপ্রায় ১.৫ কোটি
তদারকিতে যুক্ত সংস্থাহাইওয়ে পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
বিশেষ নিয়ন্ত্রণঅস্থায়ী দোকান, অবৈধ পার্কিং, ব্যাটারি চালিত যান নিয়ন্ত্রণ
অতিরিক্ত পরিবহণ ব্যবস্থাবিআরটিসি বাস, মালিক-শ্রমিক সমিতির সমন্বয়
রুট পারমিট নীতিনির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হলে বাতিল হতে পারে
যানবাহন নিয়ন্ত্রণচলাচলের অনুপযোগী বা বিকল যানবাহন সড়কে নামতে পারবে না

সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগ ও তৎপরতা নিশ্চিত করবে যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ ঈদযাত্রা, যেখানে সবাই নির্দিষ্ট ভাড়া অনুযায়ী নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে।