ঈদযাত্রায় আগেভাগে বাড়ির পথে মানুষ

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য ভিড় ও ভোগান্তি এড়াতে অনেকে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিংবা তাদের আগে গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় করছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন, আবার কেউ স্ত্রী-সন্তান কিংবা মা–বাবাকে আগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। যাত্রীদের অনেকেই জানান, ঈদের ঠিক আগের দিনগুলোতে স্টেশনে ব্যাপক ভিড় এবং টিকিট সংকট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই তারা আগে থেকেই যাত্রা শুরু করেছেন।

বুড়িমারি এক্সপ্রেসের যাত্রী মিরাজ উর রহমান বলেন, তিনি কাউনিয়া স্টেশনে নামবেন। তাঁর মতে, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের জন্য ট্রেনই সবচেয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ পরিবহন। তিনি বলেন, “ঈদ সামনে এলেই বাড়ির টানটা আরও বেশি অনুভূত হয়। তাই ভিড় ও ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।”

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া শিক্ষার্থী মিরাজ উর রহমান জানান, দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেনের সুবিধা অনেক বেশি। বাসের তুলনায় ট্রেনে ভ্রমণ করলে ক্লান্তি কম লাগে এবং নিরাপত্তাও বেশি থাকে বলে তিনি মনে করেন।

জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমু বলেন, ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই তিনি আগেভাগেই মাকে ও ছোট বোনকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তিনি জানান, ঈদের কেনাকাটাও ইতোমধ্যে শেষ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “এখন স্টেশনে খুব বেশি ভিড় নেই। ছুটি শুরু হলে বাবা ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে আসবেন। আজ তিনি নিজেই আমাদের স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ যেন এখান থেকেই শুরু হয়ে গেল।”

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় গত ১৩ মার্চ থেকে ঈদ উপলক্ষে ট্রেনযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ছিল সেই বিশেষ ব্যবস্থার দ্বিতীয় দিন। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্টেশনের প্রবেশমুখে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রবেশপথে দুই ধাপে টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের স্টেশনে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। বৈধ টিকিটধারীদের কোনো ভোগান্তি না হলেও বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দায়িত্বরত ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানিয়েছেন, টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করলে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে কোনো যাত্রীর টিকিট সংখ্যা যদি যাত্রীসংখ্যার তুলনায় কম হয়, যেমন তিনটি টিকিটে চারজন যাত্রী হলে অতিরিক্ত একজনের জন্য নির্ধারিত ভাড়ায় স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ঈদযাত্রায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত কর্মীও নিয়োজিত করা হয়েছে।

নিচে শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনের আসনসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—

বিভাগট্রেন সংখ্যামোট আসন
পূর্বাঞ্চল২৩টি১৬,১৯৪
পশ্চিমাঞ্চল১৭টি১২,৭৩২
মোট৩০টি২৮,৯২৬

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব ট্রেনের টিকিট গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই যাত্রীদের চাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আগে থেকেই পরিকল্পনা করে যাত্রা করার পরামর্শ দিয়েছে।