ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রুখতে সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন, সেতু ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবহন সেক্টরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বরদাশত করা হবে না। তিনি পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কড়া নির্দেশ জারি করে বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে এক টাকাও বেশি নিলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-টার্মিনালসমূহ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী এদিন নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল, নির্মাণাধীন খানপুর আইসিটি অ্যান্ড বাল্ক টার্মিনাল, ড্রেজার বেইড এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য আধুনিক টার্মিনাল ভবন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ বছরের ঈদযাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় অধিকতর নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক হবে। মহাসড়ক ও নৌপথের যেসব পয়েন্টে প্রতিবছর যানজট বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, সেসব স্থান ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এবার ট্রাফিক পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড এবং জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট সার্বক্ষণিকভাবে তৎপর থাকবে। যাতায়াতকারীদের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিচে ঈদযাত্রার প্রস্তুতি ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

পাক্ষিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্যপ্রয়োগকারী সংস্থামূল উদ্দেশ্য
অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ন্ত্রণবিআরটিএ ও জেলা প্রশাসনযাত্রীদের আর্থিক হয়রানি বন্ধ নিশ্চিত করা।
যানজট নিরসনহাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা।
নৌপথের নিরাপত্তানৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ডঅতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই রোধ ও দুর্ঘটনা কমানো।
অবকাঠামো পর্যবেক্ষণনৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)টার্মিনাল ও ঘাটের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

নদী দূষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা

পরিদর্শনকালে শীতলক্ষ্যা নদীর পানির চরম দূষণ প্রত্যক্ষ করে মন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নদীকে রক্ষা করা কেবল পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়েরও এখানে দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা অতি দ্রুত পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে নদী দূষণকারী প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেব। আমাদের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।”

অবকাঠামো উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের মাছঘাট এলাকায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য নতুন টার্মিনাল ভবনটি এই অঞ্চলের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই ভবনটি নির্মিত হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। মন্ত্রী প্রকল্পের প্রকৌশলীদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার তাগিদ দেন।

উক্ত পরিদর্শন কর্মসূচিতে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে নাব্য সংকট দূর করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকার বিশ্বাস করে, সড়ক ও নৌপথের এই সমন্বিত তদারকি সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।