বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইসলামী ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেট চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং অল্পমেয়াদী তহবিলের ঘাটতি কমানো।
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকগুলো প্রচলিত কল মানি মার্কেটে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে তারা অল্পমেয়াদী তহবিলের সংকটে পড়লে তা সহজে সমাধান করা সম্ভব হয় না। শরিয়াহ সম্মত তহবিলের অভাবে ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হচ্ছে। নতুন ইন্টারব্যাংক মার্কেট এই ফাঁক পূরণ করবে।
এই নতুন বাজারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো একে অপরের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি তহবিল লেনদেন করতে পারবে। অতিরিক্ত তহবিল থাকা ব্যাংকগুলো ঘাটতির মুখোমুখি ব্যাংককে সহজে সহায়তা করতে পারবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের লিকুইডিটি আরও স্থিতিশীল হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারব্যাংক মার্কেটের কাঠামো প্রণয়নের সময় ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও বাহরাইনের সফল ইসলামী ইন্টারব্যাংক মানি মার্কেটের মডেল পর্যালোচনা করেছে।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানালেন, “এই বাজার চালু হলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সমন্বয় সহজ হবে। এটি লিকুইডিটি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা সৃষ্টি করবে।”
বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা মনে করেন এটি কেবল অল্পমেয়াদী সমাধান। একজন প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “ইন্টারব্যাংক ব্যবস্থা অল্পমেয়াদী তহবিল ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হলেও দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সমস্যার সমাধান নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় নজরদারি অপরিহার্য।”
বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিং খাত দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করছে। নতুন বাজার চালু হলে খাতটির আধুনিকায়ন, কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নিচের টেবিলটি প্রধান ইসলামী ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা উপস্থাপন করছে:
| সূচক | পরিমাণ (২০২৫ সালের শেষ) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মোট ইসলামী ব্যাংকিং সম্পদ | ৩,৫০,০০০ কোটি টাকা | মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় ২০% |
| পূর্ণ ইসলামী ব্যাংক সংখ্যা | ৮টি | শাখা সংখ্যা ১২০০+ |
| লিকুইডিটি ঘাটতি/অতিরিক্ত | পরিবর্তনশীল | ইন্টারব্যাংক মার্কেট স্থিতিশীলতা বাড়াবে |
এই উদ্যোগ ইসলামী ব্যাংকিং খাতের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। নতুন বাজার চালু হলে ব্যাংকগুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে তহবিল বিনিময় করতে পারবে, যা দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতাকেও সহায়তা করবে।
