ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান, যার ফলে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সাবেক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ড. আলি লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে অন্তত ১০০টিরও বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে নিহত ও আহতের সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ২৩০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে তাদের দাবি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানানো হয়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ৬১তম ধাপ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসনের জবাব।
হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বহুমুখী ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এর মধ্যে ছিল বহু-ওয়ারহেড বিশিষ্ট খোররমশাহর-৪ ও কাদর ক্ষেপণাস্ত্র, পাশাপাশি এমাদ ও খেইবার শেকান প্রজেক্টাইল। এসব অস্ত্র দীর্ঘপাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতার জন্য পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু-ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে একই সঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
ইরান দাবি করেছে, দ্রুতগতির এবং সমন্বিত এই হামলার ফলে ইসরায়েলের বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আংশিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে, একাধিক দিক থেকে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেনি।
হামলার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সাইরেন বাজতে থাকে এবং সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমন্বিত হামলা কেবল সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
নিম্নে হামলার সারসংক্ষেপ একটি টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য (আইআরজিসি দাবি) |
|---|---|
| হামলার স্থান | তেল আবিবসহ কেন্দ্রীয় ইসরায়েল |
| লক্ষ্যবস্তু সংখ্যা | ১০০টির বেশি |
| হতাহত | প্রায় ২৩০ জন |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | খোররমশাহর-৪, কাদর, এমাদ, খেইবার শেকান |
| অভিযানের নাম | অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪ (৬১তম ধাপ) |
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে, ইরান-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও, এত বড় আকারের সরাসরি হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দেশটি কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।
