ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুকে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আঘাত করার দাবি জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটি ইরানের প্রথমবারের মতো ব্যবহারকৃত কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্র, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে লঞ্চ করা হয়।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পরিসীমা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এটি শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এই উচ্চ গতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ম্যাগাজিনের তথ্যানুযায়ী, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইসরায়েলকে লক্ষ্য করতে সক্ষম নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ইরানের কৌশলগত সামরিক ক্ষমতার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।
নিম্নের টেবিলে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | সেজিল |
| ধরণ | সলিড-ফুয়েল, কৌশলগত |
| আনুমানিক পরিসীমা | ২,০০০–২,৫০০ কিলোমিটার |
| গতি | শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত |
| লক্ষ্যবস্তু | ইসরায়েল, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর |
| প্রথম ব্যবহার | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই ধরনের উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। এর ব্যবহার কেবল সামরিক প্রস্তুতিতে নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আইআরজিসি বলেছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও আঞ্চলিক প্রভাব প্রদর্শন করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সেজিলের মতো উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরান এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রাখলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও চাপ সৃষ্টি হবে। এই পদক্ষেপ কৌশলগত সামরিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতিমালাকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করতে পারে।
সার্বিকভাবে, ইরানের সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কৌশলগত শক্তির ভারসাম্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা জাগাচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
