গাজায় ইসরায়েল–সমর্থিত সশস্ত্র দল পপুলার ফোর্সেসের নেতা ইয়াসির আবু শাবাবকে হামাসই হত্যা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে কাসেম ব্রিগেডের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। এই হত্যাকাণ্ড ছিল দীর্ঘদিনের নজরদারি, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং অভ্যন্তরীণ অন্তর্ঘাতের একটি বিরল উদাহরণ—যা গাজার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, হামাস প্রথমে বুঝতে পারে যে সরাসরি কোনো সামরিক হামলায় এই দলকে ভাঙা কঠিন হবে। কারণ আবু শাবাবের বাহিনী ইসরায়েলের ট্যাংক, নজরদারি ড্রোন এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর ওপর নির্ভর করত। তাই হামাস শুরু থেকেই একটি বিকল্প কৌশল নেয়—যা ছিল “অভ্যন্তরীণ অনুপ্রবেশ।”
একজন তরুণ যোদ্ধাকে পাঠানো হয় পপুলার ফোর্সেসে। তিনি দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করে দেখান যে তিনি হামাসের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট এবং আবু শাবাবের দলেই যোগ দিতে চান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বাহিনীর ভেতরে জায়গা করে নেন এবং অতঃপর পরিকল্পনা অনুযায়ী রাফায় হামলা চালিয়ে আবু শাবাব ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হত্যা করেন।
কারা ছিল পপুলার ফোর্সেস?
এই বাহিনীটি গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষে কাজ করত বলে ব্যাপক অভিযোগ ছিল। তারা স্থানীয় মানুষের ঘরে তল্লাশি চালানো, হামাসের বিস্ফোরক অপসারণ, যোদ্ধাদের ওপর নজরদারি, অস্ত্র লুট ইত্যাদি কাজ করত। এর মাধ্যমে গাজার প্রতিরোধ কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এ কারণে স্থানীয় মানুষ এই দলকে “ইসরায়েলি সহযোগী বাহিনী” হিসেবে দেখে। যদিও আবু শাবাব দাবি করতেন যে তিনি নিরাপত্তা বজায় রাখা ও মানবিক সহায়তা বিতরণের কাজ করেন, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তা লুটের ঘটনাও বহুবার শোনা গেছে।
ইসরায়েল কখনো সরাসরি স্বীকার না করলেও, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সম্প্রতি গাজায় একটি সশস্ত্র বাহিনীকে সমর্থনের কথা বলেন। যদিও তিনি নাম বলেননি, গাজার সাধারণ মানুষ ভালো করেই জানত কাদের জন্য এটি বলা হয়েছে।
অভিযানের নাটকীয়তা
গত বৃহস্পতিবারের রাতটি ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। পপুলার ফোর্সেসের যোদ্ধারা ভেবেছিল হামাস বাইরে থেকে আক্রমণ করতে পারে। তাই তারা ইসরায়েলি ট্যাংকের কাছে অবস্থান নেয়। কিন্তু তারা বুঝতেই পারেনি যে হুমকি ভেতরেই লুকিয়ে আছে। তরুণ অনুপ্রবেশকারী নিশ্চিত করেন যে আক্রমণটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে।
সূত্র জানায়, “হামাসের পরিকল্পনা ছিল—শত্রুর শক্তিশালী বর্ম ভেঙে ভিতরের মাটি আলগা করা। ঠিক সেটাই ঘটেছে।”
গাজার মানুষের প্রতিক্রিয়া
ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড গাজায় “ইসরায়েলি প্রভাব বিস্তারের একটি বড় বলয়” ভেঙে দিয়েছে। কারণ আবু শাবাবের বাহিনী বহুদিন ধরে স্থানীয় মানুষের ওপর দমন–পীড়ন চালিয়ে আসছিল।
অনেকে বলেন, “আবু শাবাবের মৃত্যু মানে রাফায় একটি নিষ্ঠুর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি।”
অন্যদিকে কাসেম ব্রিগেড মনে করে, রাফা এখন প্রকৃত অর্থেই “সন্ত্রাসমুক্ত” হয়। কারণ যেসব অঞ্চল আগে এ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেগুলোতে সাধারণ ফিলিস্তিনিরাই নির্যাতনের শিকার হতেন।
হত্যাকাণ্ডের পরে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়—যে নেতা কয়েক দিন আগে রাফায় ‘হামাস নির্মূল’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত নিজের সংগঠনের ভেতরের একজনের হাতেই নিহত হয়েছেন।
