ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির সামরিক মহড়ার সংকট নিয়ে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ-র সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে চলমান সংঘর্ষ এবং একাধিক ফ্রন্টে চাপের কারণে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী ভেতর থেকে ধসে পড়ার—অর্থাৎ “পতনের”—ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে জামির বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি। তার মতে, এই সংকটের মূল কারণ হলো সৈন্যদলের তীব্র ঘাটতি, রিজার্ভ বাহিনীর অপ্রতুলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অপারেশন চাপ। তিনি সতর্ক করে বলেন, “রিজার্ভ বা অতিরিক্ত বাহিনী আর বেশি দিন এই চাপ সহ্য করতে পারবে না।”
জামির বৈঠকে সরকারের প্রতি সমালোচনা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, হারেডি (অতি গোঁড়া) ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ, রিজার্ভ আইন সংশোধন এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধি—যেমন কাঠামোগত সমস্যাগুলো—সরকার যথাযথভাবে সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বর্তমান বাহিনী অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে।
সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আইডিএফ গাজা উপত্যকা, লেবানন, সিরিয়া এবং পশ্চিম তীর-সহ একাধিক সক্রিয় ফ্রন্টে কাজ করছে। পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই ক্লান্ত এবং চাপগ্রস্ত সৈন্যদের ওপর আরও বেশি বোঝা চাপাচ্ছে।
জেরুজালেম পোস্টের বরাত দিয়ে মিডিয়া জানিয়েছে, জামির বৈঠকে বলেছেন, “আইডিএফ ভেতরে ধসে পড়ার আগে আমি ১০টি বিষয়ে লাল পতাকা (বিপদ সংকেত) তুলে ধরেছি।” তিনি সতর্ক করে জানান, যদি বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে সেনাবাহিনী স্বাভাবিক দায়িত্বও পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে।
সেনাপ্রধান আরও জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় আইন ও কাঠামোগত পরিবর্তন সরকার এখনও পাস করেনি। এটি বর্তমান বাহিনীর ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি করছে এবং সামরিক প্রস্তুতির দুর্বলতা তৈরি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিচের টেবিলে বর্তমানে সেনাবাহিনীর মুখোমুখি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধানগুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ফ্রন্ট / ক্ষেত্র | চ্যালেঞ্জ | বর্তমান পরিস্থিতি | প্রয়োজনীয় সমাধান |
|---|---|---|---|
| গাজা উপত্যকা | ঘন ঘন হামলা, রকেট আক্রমণ | সৈন্যরা ক্লান্ত, অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন | রিজার্ভ শক্তি বৃদ্ধি, কাঠামোগত সহায়তা |
| লেবানন | হিজবুল্লাহ-র প্রতিরোধ | সীমান্তে ক্রমবর্ধমান চাপ | রিজার্ভ আইন সংশোধন, প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি |
| সিরিয়া | বহু-ফ্রন্ট অপারেশন | সীমিত সৈন্য, চাপের মধ্যে | অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, সরকারী সহায়তা |
| পশ্চিম তীর | সহিংসতা বৃদ্ধি | স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে | বাধ্যতামূলক সেবা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার |
জার্মান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় জামির বলেন, “সেনাবাহিনী এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও তারা দায়িত্ব পালনে সক্ষম নাও হতে পারে। যদি বর্তমান চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতিতে মারাত্মক ধস নামতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যা সমাধান ছাড়া বাহ্যিক যেকোনো সামরিক অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও বর্তমানে এই সংকটের দিকে সতর্ক নজর রাখছে।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট, মিডল ইস্ট মনিটর
