গাজায় হামাসের সুড়ঙ্গ এলাকায় বিস্ফোরক থাকার সম্ভাবনা যাচাই করতে ইসরাইল সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল, এমন তথ্য আগে থেকেই জানতে পেরেছিল যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুই সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে এই তথ্য হোয়াইট হাউসে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এটি বিশ্লেষণ করেছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে গাজার ক্ষেত্রে ইসরাইলের বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ উঠেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরনের প্রমাণের ইঙ্গিত পাওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিরা যারা ব্যবহৃত হয়েছে তারা বন্দি নাকি সাধারণ বেসামরিক মানুষ তা নিশ্চিত নয়। হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে, এই তথ্যের আলোকে তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছে কিনা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নাগরিকদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা বা তাদের সামরিক অভিযানেও বাধ্য করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারা আরও জানিয়েছে, মিলিটারি পুলিশ সম্ভাব্য অনিয়মের ঘটনার তদন্ত করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়বে, যেখানে সশস্ত্র সংঘর্ষে বেসামরিকদের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হবে।
