সংযুক্ত আরব আমিরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইরান যুদ্ধ সম্পর্কিত গুজব এবং ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিকরাও রয়েছেন। অভিযানটি রাজধানী আবুধাবি এবং দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।
আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. হামাদ সাইফ আল শামস এক বিবৃতিতে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা কৃত্রিম ভিডিও ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিল। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে কয়েকদিন ধরে বিশেষ নজরদারি চালানোর পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তারা কেবল সামাজিক স্থিতিশীলতা নয়, দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছিল।”
আমিরাতে গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশটির আইন অনুযায়ী, প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক লাখ দিরহাম জরিমানা পাবেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম ভিডিও তৈরি ও আপলোড করতেন, যা দেশের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিচের টেবিলে গ্রেপ্তারকৃতদের জাতীয়তা ও সংখ্যা দেখানো হলো:
| জাতীয়তা | গ্রেপ্তার সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| বাংলাদেশি | ১ | আবুধাবি থেকে গ্রেপ্তার |
| ভারতীয় | ১২ | বিভিন্ন প্রদেশ থেকে |
| পাকিস্তানি | ৮ | আবুধাবি ও শারজা এলাকা থেকে |
| নেপালি | ১৪ | প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে |
ড. হামাদ সাইফ আল শামস জানিয়েছেন, “গ্রেপ্তাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম ভিডিও ছড়ানোর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল। এটি শুধু সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।”
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং কোনো প্রকার মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কঠোরভাবে রোধ করা হবে। এই অভিযান সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের কার্যক্রম দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল ব্যবহার অপরিহার্য এবং মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কোনো প্রকার ছাড় নেই।
মোটের ওপর, এই অভিযান দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
