ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর, এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে পুনরায় দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। ক্যাপ্টেন হকিন্স জানান, প্রায় ১৮০ জন সেনাসদস্য ইতিমধ্যেই কাজে ফিরেছেন, যা সামরিক সক্ষমতার পুনঃস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আহতদের ধরন ও প্রকৃতি
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, আহত সেনাদের মধ্যে রয়েছে:
দগ্ধ হওয়া
বিস্ফোরণের আঘাত
মস্তিষ্কে আঘাতজনিত ক্ষতি
বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত
এই ধরণের আঘাত মূলত ইরানের একমুখী ড্রোন হামলা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর যৌথ চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের ড্রোন হামলা অধিকাংশ হতাহতের জন্য দায়ী।
সামরিক সংঘর্ষের পটভূমি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত প্রধান ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| তারিখ | হামলার ধরন | লক্ষ্যমাত্রা | মার্কিন ক্ষয়ক্ষতি | ইরানের পাল্টা হামলা |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যৌথ সামরিক অভিযান | ইরানের আঞ্চলিক লক্ষ্য | ২ নিহত, ২০ আহত | – |
| ৩ মার্চ | ড্রোন হামলা | সামরিক ঘাঁটি | ৫ আহত, ১ গুরুতর | ক্ষুদ্র ক্ষতি |
| ১০ মার্চ | রকেট ও ড্রোন হামলা | সমন্বিত সামরিক বাহিনী | ৪ নিহত, ৩০ আহত | পাল্টা হামলা কিছু শহরে |
| ১৬ মার্চ | ড্রোন বিস্ফোরণ | সামরিক স্থাপনা | ২ নিহত, ১৫ আহত | ক্ষুদ্র পাল্টা হামলা |
ক্যাপ্টেন হকিন্স আরও জানিয়েছেন, আহতদের পুনরায় দায়িত্বে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সৈন্যদের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।”
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষে মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি ড্রোন হামলা ও পাল্টা অভিযানের গতি বাড়ে, তা উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
