ইরান যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বর্জন ঘোষণা

ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, সেই দেশের মাটিতে আমরা কোনো অবস্থাতেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারি না।” এই মন্তব্য এসেছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে।

দানিয়ামালি আরও বলেন, “গত আট-নয় মাসে আমাদের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপানো হয়েছে। হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা যেখানে নেই, সেখানে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।” তাঁর এই মন্তব্য ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক হুমকি ক্রীড়ার সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্বকাপের সূচি ও ইরানের গ্রুপ

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে ইরান গ্রুপ ‘জি’-তে রয়েছে। গ্রুপে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো হল বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। ইরানের সব ম্যাচের আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রে—দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে—হওয়ার কথা ছিল। যদি গ্রুপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই দ্বিতীয় হয়, তাহলে ৩ জুলাই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হওয়ার কথা।

বিষয়তথ্য
ইরানের গ্রুপজি
প্রতিদ্বন্দ্বী দলবেলজিয়াম, মিসর, নিউজিল্যান্ড
ম্যাচের স্থানযুক্তরাষ্ট্র (লস অ্যাঞ্জেলেস, সিয়াটল)
শেষ ৩২-এর সম্ভাব্য ম্যাচ৩ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্বকাপের আয়োজকফিফা
নিরাপত্তা পরিস্থিতিযুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে অনিশ্চিত

ফিফা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

গত সপ্তাহে আটলান্টায় ফিফার প্রস্তুতি সভায় ইরান অনুপস্থিত ছিল, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে বিতর্ক সৃষ্টি করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে জানান, তিনি ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে “একদমই ভাবছেন না।”

তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আশাবাদী। তিনি বলেন, “২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরান যোগ্যতা অর্জন করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তারা অংশগ্রহণ করলে আমার কোনো আপত্তি নেই।” ইনফান্তিনো আরও বলেন, বিশ্বকাপ মানুষের মধ্যে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করতে পারে।

ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরগি জানিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বকাপ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ একটি বিশাল আয়োজন। আমরা আশা করি, যোগ্যতা অর্জন করা সব দল এতে অংশগ্রহণ করবে।”

ইরান অংশগ্রহণ না করলে সম্ভাব্য প্রভাব

ইরান যদি নিরাপত্তার কারণে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে ফিফা কী পদক্ষেপ নেবে তা এখন অজানা। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ইন্দোনেশিয়া ইসরায়েলকে আতিথ্য দিতে অস্বীকার করায় তাদের স্বাগতিক মর্যাদা বাতিল করা হয়েছিল। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যদি ইরান নিরাপত্তার কারণে অংশগ্রহণ না করে, ফিফা সিদ্ধান্ত নেবে কিভাবে বিশ্বকাপের নিয়ম ও অংশগ্রহণ সুরক্ষিত রাখা যায়।

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সিদ্ধান্ত ক্রীড়া, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।