ইরান যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমাধানের জন্য পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসলামাবাদের এই উদ্যোগ বা তথাকথিত কোনো কূটনৈতিক ফোরামের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা এ ধরনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে না।
সোমবার (৩০ মার্চ) মুম্বাইয়ের ইরানি কনস্যুলেট জেনারেল থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানের দাবি যে তারা দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছে, তা একতরফা এবং তেহরান এ বিষয়ে কোনো অংশগ্রহণ করেনি। কনস্যুলেটের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আঞ্চলিক শান্তি স্থাপনের যে কোনো আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে এই যুদ্ধের সূচনা কে করেছে তা ভুলে যাওয়া চলবে না।”
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার, যখন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিসর এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর দার দাবি করেন, সফররত মন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি আলোচনার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া তিনি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং তিনি নিজে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-র সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। তবে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইরানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করার পাশাপাশি ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনার জবাব পাঠানো হয়েছে।
মধ্যস্থতার এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত হানেছে, যার মধ্যে কুয়েতের পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং উত্তর ইসরায়েলের একটি তেল শোধনাগার উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্মান প্রদর্শনের নিদর্শন হিসেবে সোমবার থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজনে পারস্য উপসাগরে ইরানের খর্গ দ্বীপের তেল টার্মিনাল দখল করা হতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং সমপরিমাণ আরও একটি সেনাদল সেখানে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
নিচে বিষয়টির সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| মধ্যস্থতা প্রস্তাব | পাকিস্তান দ্বারা | ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে |
| ইরানের অবস্থান | সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণ না | স্পষ্টভাবে অস্বীকার |
| কূটনৈতিক বৈঠক | ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিসর, তুরস্কের মন্ত্রীরা | যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অনুপস্থিত |
| মার্কিন পরিকল্পনা | প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৫ দফা | ইরান ইসলামাবাদের মাধ্যমে জবাব দিয়েছে |
| সামরিক পরিস্থিতি | হিউমান ও উপসাগরীয় আক্রমণ | যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সহ উত্তেজনা অব্যাহত |
| হরমুজ প্রণালী | তেলবাহী ট্যাঙ্কার যাতায়াত | ট্রাম্প অনুমোদন দিয়েছেন, তবে হুঁশিয়ারি রয়েছে |
| সৈন্য মোতায়েন | মার্কিন মেরিন | আড়াই হাজার মোতায়েন, আরও সমপরিমাণ আসছে |
মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যানের মধ্যেই অঞ্চলটি উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সামরিক তৎপরতা একসাথে চলায় পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীল পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
