ইরান ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের জরুরি নির্দেশ

ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংস বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার দেশটিতে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের জন্য পরিচালিত ভার্চুয়াল মার্কিন দূতাবাস এক কঠোর নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় জানায়, পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা দিতে সক্ষম নাও হতে পারে।

সতর্কবার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের দেরি না করে নিজ উদ্যোগে ইরান ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। যেহেতু ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্যকর দূতাবাস নেই, তাই জরুরি পরিস্থিতিতে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বিষয়টি নিজেরাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

যারা কোনো কারণে ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, এ ক্ষেত্রে নিজ বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে অবস্থান করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি সম্ভাব্য ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা—যেমন স্যাটেলাইট ফোন বা নির্ভরযোগ্য অফলাইন যোগাযোগ পদ্ধতি—আগেভাগেই প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

ভার্চুয়াল দূতাবাস আরও জানায়, পরিস্থিতি তুলনামূলক নিরাপদ থাকলে স্থলপথে প্রতিবেশী দেশ আর্মেনিয়া অথবা তুরস্ক হয়ে ইরান ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে যাত্রাপথ নির্বাচন করার সময় সীমান্ত পরিস্থিতি ও স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন-ইরানি দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা আরও বেশি। ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি না দেওয়ায়, দেশত্যাগের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতেই হবে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো প্রমাণ ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ইরানে চলমান তীব্র বিক্ষোভ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সরকারি দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাও ক্রমেই বাড়ছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সংকট নিরসনে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজনে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রাখা হয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখতে বিশ্বাসী এবং কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে বিমান হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

নিচের টেবিলে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তার মূল নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো :

বিষয়নির্দেশনা
ইরান ত্যাগঅবিলম্বে নিজ উদ্যোগে দেশ ছাড়তে হবে
সহায়তাযুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরাসরি সহায়তা সীমিত
দেশ ছাড়তে না পারলেনিরাপদ ভবনে অবস্থান, চলাচল সীমিত
যোগাযোগইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার বিকল্প ব্যবস্থা
স্থলপথে যাত্রাআর্মেনিয়া বা তুরস্ক বিবেচ্য
দ্বৈত নাগরিকত্বইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক

সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং দ্রুত নিরাপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।