যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান আগামী ফেব্রুয়ারিতে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ মহড়া আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই মহড়াকে কেবল সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে দেখছেন না, বরং এটিকে কূটনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন। ইরান এই মহড়ার মাধ্যমে নিজের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারেও আগ্রহী।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট’ নামের এই যৌথ নৌ মহড়ায় তিন দেশের নৌবাহিনী অংশগ্রহণ করবে। ইরানের নিয়মিত নৌবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌ ইউনিটগুলোর সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ এবং সহায়ক ইউনিট মহড়ায় উপস্থিত থাকবে।
মহড়াটি অনুষ্ঠিত হবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে উত্তর ভারত মহাসাগরে, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বিভিন্ন নৌকৌশল, সমুদ্র নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং সমন্বিত যুদ্ধ অনুশীলন বাস্তবায়ন করবে। ইরান প্রথমবার ২০১৯ সালে এই মহড়ার আয়োজন করেছিল এবং তার পর থেকে এটি মোট সাতবার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি মহড়ায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলো তাদের সামরিক কৌশল এবং নৌনেত্রিক ক্ষমতা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া “দ্রুত, শক্তিশালী এবং মারাত্মক” হবে। তবে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, তেহরান কেবল তখনই আলোচনায় বসবে, যখন তা ন্যায্য, ভারসাম্যপূর্ণ এবং জোরপূর্বকহীন শর্তে হবে।
মহড়া সংক্রান্ত প্রধান তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মহড়ার নাম | ম্যারিটাইম সিকিউরিটি বেল্ট |
| আয়োজনকারী দেশ | ইরান |
| অংশগ্রহণকারী দেশ | ইরান, চীন, রাশিয়া |
| ইরানি অংশগ্রহণকারী ইউনিট | ইরানি নৌবাহিনী, IRGC নৌ ইউনিট |
| স্থান | উত্তর ভারত মহাসাগর |
| প্রথম আয়োজন | ২০১৯ |
| মোট আয়োজন (বর্তমান পর্যন্ত) | ৭ বার |
| সময়কাল | ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি |
| প্রেক্ষাপট | তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা বৃদ্ধি |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মহড়া কেবল সামরিক অনুশীলন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য যে “একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে”, তা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করেছে।
এছাড়া মহড়ার মাধ্যমে ইরান, চীন ও রাশিয়া সমুদ্র নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং সামুদ্রিক যোগাযোগের নতুন নীতিমালা নির্ধারণ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এটি একটি শক্তিশালী সংকেত যে, এই দেশগুলো তাদের নৌসামরিক কৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে সক্ষম।
