ইরানে স্থল অভিযান নিয়ে ট্রাম্প দলের দ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি নিয়ে রিপাবলিকান দলের মধ্যে বিভাজনের প্রমাণ মিলেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতা ও রিপাবলিকান নেতা ন্যান্সি মেস সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ‘যদি আমরা মেরিন ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন নিয়ে স্থল অভিযান চালাই, তা একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধের আকার নেবে। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন থাকা প্রয়োজন এবং জনগণকে যথাযথ তথ্য দেওয়া উচিত।’

মেসের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, এক মাস ধরে চলা আকাশযুদ্ধের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল অভিযান নিয়ে ভাবছেন। পেন্টাগনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মার্কিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে সমবেত করেছে, যা সংঘাতকে নতুন, আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেন, ‘যদি এটি বিশেষ বাহিনীর সীমিত অভিযান হয়, যাদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পন্ন করতে পাঠানো হচ্ছে, কাজ শেষ করে বেরিয়ে আসবে, তা দীর্ঘমেয়াদি দখলের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে সংঘাত শুরু করা এবং তা অসম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া। আমাদের অবশ্যই সক্ষমতা থাকতে হবে কাজ শেষ করতে।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এবং পদাতিক সৈন্যরা সীমিত আকারে ইরানে স্থল অভিযান চালাবে। তবে ট্রাম্প এ ধরনের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত রোববার ইউএসএস ট্রিপোলি যুদ্ধজাহাজের নেতৃত্বে ৩,৫০০ মার্কিন সেনা ও মেরিন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই মোতায়েনে আক্রমণ ও পরিবহন সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন ও সামরিক ব্যয়

বিষয়তথ্য
স্থায়ী সেনা সংখ্যা৫০,০০০ (মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঘাঁটিতে)
সাম্প্রতিক মোতায়েন৩,৫০০ সেনা ও মেরিন
বার্ষিক সামরিক বাজেট১ লাখ কোটি ডলার
অতিরিক্ত বাজেট অনুরোধ২০,০০০ কোটি ডলার

ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কোরি বুকার বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া আমাদের এমন একটি সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে।’ মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেছেন, ‘অবৈধ যুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থায়ন আমাদের নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে, প্রতিদিন বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে, এবং তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ‘পেন্টাগনের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ বিকল্প রাখার জন্য। তবে প্রেসিডেন্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।’ ট্রাম্প বারবার বলেছেন, তিনি সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অবস্থায় স্থল অভিযান হলে তা কেবল যুদ্ধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল ও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। কংগ্রেসের অনুমোদন, অভিযান সীমারেখা এবং স্থানীয় পরিস্থিতি স্পষ্ট না হলে, সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়ন্ত্রণহীন হতে পারে।