ইরানে বালিকা বিদ্যালয়ে নিহত বেড়ে ২৪

দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলায় নিহতের সংখ্যা এখন ২৪-এ পৌঁছেছে। দেশটির বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি শনিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে। হামলার খবরের প্রথম পর্যায়ে শুধু পাঁচজন নিহতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, নিহতের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার সময় স্কুল ভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। তবে হতাহতের সম্পূর্ণ তালিকা ও হামলার প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার সারসংক্ষেপ (মিনাব, হরমোজগান প্রদেশ)

বিষয়বিবরণ
স্থানমিনাব শহর, হরমোজগান প্রদেশ, ইরান
লক্ষ্যপ্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়
নিহত সংখ্যা২৪ জন (বেশিরভাগ শিক্ষার্থী)
আহত সংখ্যাআনুমানিক ১৫–২০ জন
স্কুলের ক্ষতিভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
সূত্রফারস নিউজ এজেন্সি, স্থানীয় প্রশাসন
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াবিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়

এই হামলা চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন। আলজাজিরা রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্কুলে প্রবেশ করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে, ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রেণিকক্ষে নিরাপদভাবে থাকা সত্ত্বেও মারাত্মক আঘাত পায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে এবং আহতদের কাছে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, হামলার পেছনের প্রকৃত কারণ ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের পরিচয় এখনও স্পষ্ট হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় চরম শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত শিশুদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজিক সংগঠনগুলো দ্রুত এগিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে এমন হামলা শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।