ইরানে পুলিশ হত্যায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

চলতি বছরের শুরুতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ সদস্যদের হত্যার দায়ে তিনজনকে বৃহস্পতিবার ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত সারাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষত ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

ইরানের বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, “জানুয়ারির অস্থিরতায় হত্যাকাণ্ড এবং জায়নিস্ট শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অপারেশন পরিচালনার অভিযোগে তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আজ সকালে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।” মিজান আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তরা দুই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য হত্যা করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘মাহারেবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’সহ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিক্ষোভগুলো শুরুতে শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু পরে ‘বিদেশি প্ররোচনায় দাঙ্গা’ রূপ নেয়, যার ফলে হত্যাকাণ্ড ও ব্যাপক ভাঙচুর ঘটে। তেহরান সূত্রে জানা যায়, এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ পথচারীসহ প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এই সহিংসতাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) তথ্য ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের মতে, নিহতের সংখ্যা ৭ হাজারের বেশি এবং অধিকাংশ নিহত বিক্ষোভকারী ছিলেন। সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

নিচের টেবিলটিতে বিক্ষোভ ও নিহতের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
বিক্ষোভের প্রারম্ভ২০২৫ সালের ডিসেম্বর, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ
বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়৮-৯ জানুয়ারি, ২০২৬
নিহত (ইরানি সরকার অনুযায়ী)প্রায় ৩,০০০
নিহত (এইচআরএএনএ অনুযায়ী)৭,০০০+
অভিযুক্তদের সংখ্যা৩ জন
দণ্ডফাঁসি
অপরাধের ধরনপুলিশের হত্যা, ‘মাহারেবেহ’
সরকারী ব্যাখ্যা‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ ও বিদেশি প্ররোচনা
মানবাধিকার সংস্থার ব্যাখ্যানিহতদের অধিকাংশ বিক্ষোভকারী, সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে

এই ঘটনাটি ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এক বড় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের এই ধরনের কঠোর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।