ইরানে ইসরাইল-মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা

ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর। শনিবার তেহরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত এ হামলার ফলে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এর প্রভাবে আরব সাগর, পারস্য উপসাগর ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের বেসামরিক জীবন ও আকাশপথে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ইতিমধ্যে এ অঞ্চলের অধিকাংশ দেশ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

হামলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেক্সিমে প্রেভোট বলেন, “ইরানের জনগণকে সরকারের কার্যক্রমের জন্য শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। আমরা গভীরভাবে অনুতপ্ত যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও আগে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।”

নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এ হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যদিও ইসরাইল এটিকে প্রতিরোধমূলক হামলা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে তা বৈধ নয়। প্রতিরোধমূলক হামলার জন্য অবশ্যই তাৎক্ষণিক হুমকির উপস্থিতি থাকতে হবে।”

পাকিস্তানও ইরানবিরোধী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার বলেন, “পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। এই সংকটের শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাপ্রসূত সমাধানের জন্য দ্রুত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে হবে।”

সৌদি আরবও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছিল। তবে এর পরের সময় রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা নতুন উত্তেজনার আভাস দিচ্ছে।

বিমান চলাচলে প্রভাব

উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিমান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিচের টেবিলটি সাম্প্রতিক ফ্লাইট বাতিলের তথ্য উপস্থাপন করছে:

দেশঅভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিলআন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলমন্তব্য
সৌদি আরব৪৫%৬০%রিয়াদ ও জেদ্দা বিমানবন্দর প্রভাবিত
কুয়েত৩৫%৫৫%আন্তর্জাতিক ট্রাফিক স্থগিত
আবুধাবি৪০%৫০%নিরাপত্তার কারণে ফ্লাইট পরিবর্তন
বাহরাইন৩০%৪৫%তেল সেক্টর ও বেসামরিক ভ্রমণ প্রভাবিত

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

এই সংঘাতের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রতিক্রিয়া নেওয়া অত্যাবশ্যক।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই সাম্প্রতিক উত্তেজনা কেবল সাময়িক নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

এই হামলা ও উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য কূটনৈতিক সংলাপ দ্রুত আবশ্যক।