সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক ও পর্যটনকেন্দ্র দুবাই মেরিনা শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে ইরানের হামলায় কেঁপে উঠেছে। তেহরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করার চেষ্টা চালায়। তবে প্রতিহত হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ মেরিনার একটি ভবনে আঘাত হানে। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধ্বংসাবশেষে ছোট ছোট ক্ষতি লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে শুক্রবার আবুধাবির হাবসান প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনা ইরানের হামলার শিকার হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সেখানে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি মিসরের নাগরিক। আহতদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি ও দুজন মিসরীয় নাগরিক। হামলার ফলে হাবসান স্থাপনায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
সাম্প্রতিক হামলার তথ্যসার
| তারিখ | লক্ষ্যবস্তু | হামলার ধরন | হতাহত | ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ |
|---|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক স্থাপনা | ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র | – | সামরিক স্থাপনায় সীমিত ক্ষতি |
| ৩ এপ্রিল | আবুধাবির হাবসান গ্যাস স্থাপনা | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র | ১ নিহত, ৪ আহত | স্থাপনায় আগুন ও ব্যাপক ক্ষতি |
| ৪ এপ্রিল | দুবাই মেরিনা | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র | ০ | ধ্বংসাবশেষ একটি ভবনে আঘাত |
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে, মূলত মার্কিন ও ইসরাইলি সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে। প্রথমদিকে হামলাগুলো শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিক ঘটনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্থাপনায়ও আঘাত হানা শুরু হয়েছে।
দুবাই মেরিনায় হামলায় সরাসরি কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাণিজ্য, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দুবাই মেরিনা পর্যটক এবং উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক হামলা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
এই হামলা প্রমাণ করেছে যে, সামরিক সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে, বাণিজ্যিক ও শহুরে এলাকাগুলোকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করছে।
