ইরানের হাইপারসনিক ফাত্তাহ-২: প্রতিরোধ অসম্ভব

ইরান নির্মিত ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে সামরিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে এই ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের কয়েকটি উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত তিনটি সফল আঘাত হেনেছে।

ফাত্তাহ-২ মূলত হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পথ পরিবর্তন ও কৌশলগত ম্যানুভার সম্পাদন করতে সক্ষম। এর ফলে প্রচলিত রাডার এবং ইন্টারসেপ্টর সিস্টেমের জন্য এটিকে ধরার বা ধ্বংস করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের মতো।

ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুতগতিতে ছুটে গিয়ে তা ধ্বংস করার নীতিতে কাজ করে। তবে ফাত্তাহ-২-এর মতো ম্যাক-১০ গতির ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শব্দের ৩০ গুণ গতিতে ছুটতে হবে। এই গতিতে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণের কারণে বর্তমানে প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব নয়।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগেই ইরানের পুরনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চাপের কারণে সীমিত কার্যক্ষমতার মুখোমুখি হয়েছিল। ফাত্তাহ-২-এর হাইপারসনিক প্রযুক্তি সেই সীমাবদ্ধতাকে আরও গভীর করেছে। যদিও ইসরায়েল একটি বিশেষ জোন ডিফেন্স ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে, বাস্তবায়নের জন্য কয়েক দশক সময় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।

নিচের টেবিলে ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রচলিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনামূলক তথ্য দেখানো হলো:

বৈশিষ্ট্যফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
সর্বোচ্চ গতিম্যাক-১০ (প্রায় ১২,৩০০ কিমি/ঘন্টা)শব্দের ১–২ গুণের বেশি সম্ভব নয়
প্রযুক্তিহাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেলব্যালিস্টিক ট্র্যাকিং ও ইন্টারসেপ্টর
পথ পরিবর্তন ক্ষমতাউচ্চ স্তরে কৌশলগত ম্যানুভারসীমিত, পূর্বনির্ধারিত ট্র্যাক অনুসরণ
ধরা বা ধ্বংস করাপ্রায় অসম্ভবব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত কার্যকর
বাস্তবায়ন খরচবিশেষ জোন ডিফেন্স: কয়েক বিলিয়ন ডলার ও দশক সময় প্রয়োজন

বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রাচীরকে অতিক্রম করতে পারবে কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।