ইরানের ফার্স প্রদেশে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভের ১১তম দিনে বুধবার (৭ জানুয়ারি) হাজার হাজার মানুষ ভাস্কর্যটির প্রতি আক্রমণ চালান।
কাসেম সোলাইমানি ২০২০ সালে ইরাকে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যুর জেরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে এই ঘটনার পরেও দেশজুড়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
বুধবার রাতভর বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তা সত্ত্বেও রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় স্লোগান দেয়, সরকারি ভবন ও কর্মকর্তাদের গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্ফাহানে একটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সংক্রান্ত ভবনে আগুন ধরানো হয়। তুর্কি সংবাদমাধ্যম ইয়েনেত নিউজ অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ মোটরসাইকেল, গভর্নর অফিস ও সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতেও আগুন লাগিয়েছেন।
ইরানের শেষ শাহের ছেলে রেজা পেহলেভি বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে বৃহস্পতিবার জনগণকে রাস্তায় আসার আহ্বান জানান। মানুষের একাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রথমে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলন শুরু করেন। এরপর এই আন্দোলন ১২ দিন ধরে চলমান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিক্ষোভ সংক্রান্ত মূল তথ্য (সারসংক্ষেপ)
| তারিখ | স্থান | ঘটনা ও কার্যক্রম | লক্ষ্য ও প্রভাব |
|---|---|---|---|
| ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | তেহরান, গ্র্যান্ড বাজার | ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু | জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ |
| ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ফার্স প্রদেশ | কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্য ভাঙচুর | রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রকাশ |
| ৭-৮ জানুয়ারি ২০২৬ | তেহরান, ইস্ফাহান | সরকারি ভবন, টেলিভিশন অফিস ও ছবি আগুনে ভস্মীভূত | সরকারের বিরুদ্ধে জনজোয়ার |
| ৮ জানুয়ারি ২০২৬ | বিভিন্ন শহর | রেজা পেহলেভির আহ্বানে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে | আন্দোলনের সম্প্রসারণ ও তীব্রতা বৃদ্ধি |
বিক্ষোভের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের বিভিন্ন শহরে সামাজিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ মিলিয়ে পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
