ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২,৬৭৭ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৯,৯০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। তবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এইচআরএএনএ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও দমন অভিযানে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনও নিহত বা আহতের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিক্ষোভের সূত্রপাত ও বিস্তার
বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার থেকে। মূলত ব্যবসায়ী ও দোকানদাররা মূল্যস্ফীতি, রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন। এর পর আন্দোলন দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে অংশ নেন। ধীরে ধীরে এটি শুধু অর্থনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
বিক্ষোভে নিহত ও আহতের এই উচ্চ সংখ্যার খবর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি পুনর্বিবেচনা করছে। ইরানের প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক, যার সঙ্গে দেশের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, এই সংকটকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।
বিক্ষোভ ও হতাহতের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| বিষয় | সংখ্যা/তারিখ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিহত | ২,৬৭৭ | নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু |
| গ্রেফতার | ১৯,৯০৭ | সরকারি তথ্য নেই, সংস্থার হিসাব |
| বিক্ষোভের সূচনা | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু |
| বিক্ষোভের প্রধান কারণ | মূল্যস্ফীতি, রিয়ালের অবমূল্যায়ন, অর্থনৈতিক সংকট | ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয় |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সতর্ক অবস্থান | আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকি বিবেচনা |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিক্ষোভ থেমে যাওয়া মানে সমস্যা শেষ নয়; বরং, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ইরান ও প্রতিবেশী অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে সংকট তৈরি করতে পারে।
