ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সরকারি দমন-পীড়নের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের জনগণকে বার্তা দিয়েছেন, “সহায়তা আসছে। আপনারা দেশপ্রেমে এগিয়ে যান, আপনারা আপনার প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করুন।”
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে বলেন,
“ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।”
এদিকে, রয়টার্স ব্রিটিশ বার্তা সংস্থার বরাতে জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এটি ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এত বিশাল সংখ্যক মৃত্যুর প্রথম স্বীকারোক্তি।
বিক্ষোভ শুরু হয় ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে, মূলত ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিরোধে। তেহরানের ব্যবসায়ীরা রাস্তা অবরোধের মাধ্যমে প্রতিবাদ শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য শহর যেমন কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহ-এ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে এই অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য দায়ী করেছে। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, ফলে সংঘর্ষ এবং ব্যাপক হতাহতের খবর এসেছে।
হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) সূত্রে জানা গেছে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮৭টি শহরের ৬০৬টি স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০,৭২১ জনকে আটক করা হয়েছে। এই সংস্থা নিহতের সংখ্যা ৬৪৬ জন জানিয়েছে, যার মধ্যে ৫০৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ৯ শিশু।
নিচের টেবিলটি বিক্ষোভ সংক্রান্ত প্রধান তথ্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরছে:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিক্ষোভের সময়কাল | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ – ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ |
| নিহতের সংখ্যা (রয়টার্স সূত্রে) | প্রায় ২,০০০ |
| নিহতের সংখ্যা (এইচআরএএ সূত্রে) | ৬৪৬ (বিক্ষোভকারী: ৫০৫, শিশু: ৯) |
| বিক্ষোভ চলা শহর | ১৮৭ শহর, ৩১ প্রদেশ |
| আটককৃত ব্যক্তি | ১০,৭২১ জন |
| মূল কারণ | মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের দরপতন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি |
| ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া | বৈঠক বাতিল, সহায়তা আসছে, বিক্ষোভকারীদের উৎসাহ প্রদান |
ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও সহিংস দমন-পীড়ন আন্তর্জাতিক নজর কাড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় দেশজুড়ে অস্থিরতা এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
