যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতি পুনরায় সতর্কতা জারি করেছে, স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তেহরান যদি নিউক্লিয়ার সমৃদ্ধি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নিয়ে আমেরিকার দাবিগুলো মানতে ব্যর্থ হয়, তবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র “অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা” নিতে প্রস্তুত, যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো, নয়তো খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।” বিশ্লেষকরা তার মন্তব্যকে ইঙ্গিতপূর্ণ হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখেছেন, যেখানে সমঝোতা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা রাখে, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও থাকতে পারে।
এই সতর্কতা এমন সময় এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক এবং কৌশলগত কার্যক্রম বেড়ে চলেছে। গত সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি ও ওমানের সুলতান হইথাম বিন তারিক আল সাইদ বৈঠক করেছেন, যেখানে দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনার ফলাফল ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে, মূলত বিষয়টি ছিল উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক দ্বিপক্ষীয় পথ তৈরি করা।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী হয়েছে। ইরানের পানির নিকটবর্তী এলাকায় একটি উল্লেখযোগ্য নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন। মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসন আরও একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য পদক্ষেপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ আমেরিকান পরিচালিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছেন, যা চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
নিচে মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ | তারিখ/সময় |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রপতির সতর্কতা | ইরান প্রতিরোধ করলে কঠোর ব্যবস্থা হুমকি | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| কূটনৈতিক বৈঠক | আলি লারিজানি ও সুলতান হইথাম | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| নৌবাহিনী মোতায়েন | ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন ও সহায়ক বাহিনী | ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| বাণিজ্যিক জাহাজ নির্দেশ | ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশ | ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| সামরিক উপস্থিতি | মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী বৃদ্ধি | চলমান ২০২৬ |
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে। ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছে তেহরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে: নির্দিষ্ট চুক্তি না মানলে গুরুতর ফলাফলের মুখোমুখি হতে হবে।
