ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি যুদ্ধের সময় আহত হয়েছেন, তবে বর্তমানে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এর ছেলে এবং সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এই খবর প্রকাশ করেছে।
ইউসুফ পেজেশকিয়ান টেলিগ্রামে লিখেছেন, “আমি মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার খবর শুনেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছেন, ‘আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন’।” যদিও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিনি যুদ্ধের সময় আহত হয়েছেন, তবে তার আঘাতের ধরন বা অবস্থার বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
মোজতবা খামেনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এর দ্বিতীয় সন্তান। গত রোববার তিনি দেশের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। ইরানের ৮৮ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এই ভোট পরিচালনা করে।
ইরানের সর্বশেষ সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নতুন সুপ্রিম লিডার | মোজতবা খামেনি |
| বয়স | ৫৬ বছর |
| নির্বাচনী প্রক্রিয়া | অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস, ৮৮ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব |
| নির্বাচনের তারিখ | গত রোববার |
| পূর্ববর্তী সুপ্রিম লিডার | আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (মৃত: ২৮ ফেব্রুয়ারি) |
| নিহতদের সংখ্যা | কংক্রিট তথ্য নেই, তবে পরিবারের সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিহত হন |
| আহতের ধরন | প্রকাশিত হয়নি |
২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যৌথ হামলায় তেহরানে মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার পরিবার ও কিছু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। এরপর থেকেই মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
মোজতবা খামেনি কখনও সরকারি দায়িত্ব পালন করেননি বা নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তার বাবা সুপ্রিম লিডার থাকার সময় তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাবশালী ছিলেন। তিনি ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তার বাবা বৃদ্ধ হওয়ার পর থেকেই তাকে সম্ভাব্য পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা নিজে কখনও এই বিষয়ে প্রকাশ্যভাবে আলোচনা করেননি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্ব ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে, বিশেষ করে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।
মোজতবা খামেনির নিরাপদ থাকার খবর ইরানি জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে কিছুটা নিশ্চয়তা দিয়েছে। তবে চলমান যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
এভাবে মোজতবা খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের পথে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যত নীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।
