ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার প্রথম ভাষণে ঘোষণা করেছেন যে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট, হরমুজ প্রণালি, বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকবে।
মোজতবা খামেনি দেশের নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শত্রুদের ওপর কৌশলগত চাপ বজায় রাখতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। জাতীয় ঐক্য আমাদের প্রধান হাতিয়ার।” হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ পথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহণ করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পথ বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালির বর্তমান প্রভাব
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব | বিশ্ব তেলের প্রায় ২০% সরবরাহ এই পথে হয় |
| বর্তমান দাম | ব্যারেল প্রতি $100+ |
| প্রভাবিত দেশসমূহ | যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া |
| ইরানের নীতি | রুট বন্ধ রাখা, শত্রুদের চাপ বৃদ্ধি করা |
নেতা খামেনি বলেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীও ইরানকে সমর্থন প্রদানের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যেসব সাহসী সৈন্য দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিব। যারা দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।”
তবে খামেনি প্রকাশ করেছেন যে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করতে চায়, কিন্তু মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোজতবা খামেনি গত ৮ মার্চ ইরানের নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়, যেখানে ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
খামেনির নেতৃত্বে ইরান এখন সঙ্কটপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ও সামরিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতেও সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
