ইয়েমেনে সৌদি জোটের বড় সামরিক অভিযান

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট এক বিস্তৃত সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় হাজরামাউত প্রদেশের মুকাল্লা বন্দর এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অভিযান চালানোর মূল উদ্দেশ্য হল বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালীন জানমাল ও জীবন রক্ষা করতে নাগরিকদের দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্কতা জারি থাকবে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযান শুরু হলেও, চলতি ডিসেম্বরের শুরুতে দক্ষিণ ইয়েমেনে ক্ষমতার বড় পালাবদল ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত এসটিসি গোষ্ঠী দক্ষিণ ইয়েমেনের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ এডেন শহর থেকে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে বিতাড়িত করেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাজরামাউত ও আল-মাহরা অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি সৌদি জোটের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এসটিসির সশস্ত্র বাহিনী হাজরামাউত এলাকায় সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

যথাযথ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সামরিক অভিযান দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে বেসামরিকদের নিরাপত্তা ও মানবিক সঙ্কট রোধ করা জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

নিচে ডিসেম্বরের পরিস্থিতি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

তারিখঘটনাএলাকাদখলকারী গোষ্ঠী
ডিসেম্বর ২০২৫ (শুরু)ক্ষমতার পালাবদলদক্ষিণ ইয়েমেনএসটিসি
ডিসেম্বর ২০২৫এডেন শহর দখলএডেনএসটিসি
ডিসেম্বর ২০২৫হাজরামাউত ও আল-মাহরা দখলহাজরামাউত, আল-মাহরাএসটিসি
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫সৌদি জোট সামরিক অভিযান ঘোষণাহাজরামাউত মুকাল্লা ও আশপাশসৌদি জোট

অভিযান চলাকালীন পরিস্থিতি ও মানবিক সঙ্কট পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর নজর রাখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।