ইয়াবা উদ্ধারে দম্পতি গ্রেপ্তার

বাগেরহাটে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বাদে কাড়াপাড়া এলাকায় তাদের নিজ বসতঘর থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিকল্পিত এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ব্যবসার একটি সক্রিয় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়।

আটককৃতরা হলেন বাদে কাড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ মুনির হোসেন খোকন (৪১) এবং তার স্ত্রী রেশমা আক্তার (৩৪)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে মাদক সংরক্ষণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে, যা তদন্তে নতুন দিক উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, পূর্বসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খোকনের বাড়িতে ইয়াবার একটি বড় চালান মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সেই তথ্য যাচাই করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে তাদের বসতঘরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৬৪ হাজার ২০০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল যে এ বাড়িটি মাদক মজুত ও বিতরণের একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে এমন অভিযান নিয়মিত চালানো হবে।”

অভিযান শেষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম জাফরুল আলম বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। আটক দম্পতিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের মিশ্রণে তৈরি একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর মাদক, যা দ্রুত আসক্তি সৃষ্টি করে এবং সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা জরুরি হয়ে উঠেছে।

নিচে অভিযানে উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—

উদ্ধারকৃত সামগ্রীপরিমাণ
ইয়াবা ট্যাবলেট২,০০০ পিস
নগদ অর্থ৬৪,২০০ টাকা
মোবাইল ফোন২টি

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ধরনের অভিযান মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে তারা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।