বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা মো. এনামুল হাওলাদারকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে সম্পৃক্ততার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রহমতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. করিম হাং এবং সাধারণ সম্পাদক রাজন সিকদারের যৌথ স্বাক্ষরে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. নিজাম হাওলাদার স্বাক্ষরিত আকারে প্রচার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. এনামুল হাওলাদারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তাকে অবিলম্বে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত ব্যক্তির সঙ্গে দলীয় কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হওয়ার এবং দলীয় বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর প্রায় দেড়টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বরিশাল জেলা কার্যালয়ের একটি দল বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার অধীন রহমতপুর ইউনিয়নের ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে এনামুল হাওলাদারের নিজ বাড়ি থেকে ৩২৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার এনামুল হাওলাদার ক্ষুদ্রকাঠী গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রহমতপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় বসে তিনি গোপনে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করতেন। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা তার বাড়িতে এসে ইয়াবা কিনতেন। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ডিএনসির কর্মকর্তারা প্রথমে ক্রেতা সেজে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিচে অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৩২৬ পিস |
| নগদ অর্থ | ৬,৫৯,০০০ টাকা |
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক হাওলাদার মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় এনামুল হাওলাদারের ঘর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।
