ইকুয়েডরে পৃথক সশস্ত্র হামলায় নিহত ১৪, সহিংসতার লাগামছাড়া বিস্তার

ইকুয়েডরের উপকূলীয় অঞ্চলে রোববার সংঘটিত দুটি পৃথক সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা, এই হামলা মাদক চক্রগুলোর মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত।

কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইকুয়েডরের উপকূলে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ঘিরে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ক্রমেই সাধারণ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ভয়াবহ হামলার বর্ণনা

প্রথম হামলাটি ঘটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর এল এমপালমে। শহরের পুলিশ প্রধান মেজর অস্কার ভ্যালেন্সিয়া জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিনজন আহত হন।

তিনি জানান,

“হামলাকারীরা দুটি পিকআপ ট্রাকে করে এসে পিস্তল ও রাইফেল দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। তারা স্রেফ গুলি চালিয়েছে উপস্থিত সকলের দিকে। নিহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।”

এর কিছুক্ষণ পর, একই সশস্ত্র দল আরেকটি ভিড়ের ওপর হামলা চালিয়ে আরও দুজনকে হত্যা করে।

ভ্যালেন্সিয়া আরও জানান,

“একটি মদের দোকানের দরজায় এক মৃতদেহ পড়ে ছিল, আর পাশে ফুটপাতে আত্মীয়স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে উঠেছিল।”

তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ৪০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক আলামত সংগ্রহ করেছেন।

সহিংসতার পরিসংখ্যান

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ২০২৪ সালের শুরুতে সংগঠিত অপরাধ দমনে যুদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকে দেশটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম সহিংস দেশ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

  • ২০২৪ সালে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ৩৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
  • সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসে দেশে ৪,০৫১টি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে।

সহিংসতার ধারাবাহিকতা

মাত্র এক সপ্তাহ আগে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ভিলামিল শহরের একটি পর্যটন এলাকায় একটি পানশালায় পুল খেলার সময় ৯ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ছায়ায় ইকুয়েডরের অস্থিরতা

এক সময় ল্যাটিন আমেরিকার একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ইকুয়েডর এখন আন্তর্জাতিক মাদকচক্রগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই চক্রগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মাদক পাচারের জন্য ইকুয়েডরের বন্দরগুলো ব্যবহার করছে, ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ সত্ত্বেও সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড কমার পরিবর্তে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, যা ইকুয়েডরের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।