সদ্য বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ছদ্মবেশে বিদেশি কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আনু মুহাম্মদ। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ড. আনু মুহাম্মদের দাবি, সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি ছিলেন যারা আনুষ্ঠানিকভাবে নীতি-পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে তারা বিদেশি করপোরেট স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁর ভাষায়, “তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, তারা দেশের স্বার্থের চেয়ে বহিরাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।” যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর এই মন্তব্য নীতি-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
বিশেষ করে তিনি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর–এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এর নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনায় বিদেশি কোম্পানির সম্পৃক্ততা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক উন্নত দেশে একাধিক বন্দর থাকলেও সেখানে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে প্রধান বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া মানে পুরো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কাঠামোকেই ঝুঁকির মুখে ফেলা।
এ প্রসঙ্গে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল–এর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে গড়ে উঠছিল। বিশেষ করে গত ছয় মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালনার ফলে দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় হ্রাস এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন অবস্থায় এই টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিচে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য | গুরুত্ব |
|---|---|---|
| চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা | ~৯০% আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন | জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি |
| নিউমুরিং টার্মিনাল | নৌবাহিনীর পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি | স্থানীয় সক্ষমতার উদাহরণ |
| অভিযোগের ধরন | উপদেষ্টা পর্যায়ে লবিং কার্যক্রম | নীতি-স্বচ্ছতার প্রশ্ন |
| সম্ভাব্য ঝুঁকি | বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি | অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বে প্রভাব |
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি সরকারি নিয়োগ, পরামর্শক নির্বাচন এবং কৌশলগত সম্পদের ব্যবস্থাপনায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে।
তবে এখনো পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুটোই বাড়ছে।
