ইংল্যান্ডকে পরামর্শ: অস্ট্রেলিয়ায় জেতার জন্য রবি শাস্ত্রীকে কোচ বানাও

১১ দিনের মধ্যে অ্যাশেজে ইংল্যান্ড হারেছে ৩-০ ব্যবধানে। হাতে আছে আরও দুটি টেস্ট, কিন্তু সিরিজের এই ভয়ঙ্কর ব্যবধান ইংল্যান্ডের জন্য উদ্বেগজনক। এমন অবস্থায় সমালোচনা আসাটাই স্বাভাবিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো বিশেষ করে “বাজবল” কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করছে। তাদের দাবি, এই সিরিজের পর ইংল্যান্ডকে নতুনভাবে সাজানো ছাড়া উপায় নেই। শুধু সংবাদমাধ্যমই নয়, ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার এবং কিংবদন্তিরাও পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফ–এ লেখা কলামে জিওফ বয়কট ইংল্যান্ডকে কোচ পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম দায়িত্বে আছেন, তবে সমালোচনার কারণে তাঁর কোচিং পদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বয়কট উল্লেখ করেছেন, “বেন স্টোকস ও ম্যাককালাম অনেক কৃতিত্ব পেয়েছেন, কিন্তু বাজবলের সময় শেষ। অতিরিক্ত অহংকার সাধারণ বিচারের জায়গা দখল করেছে। কাজ না করলে থামতে হবে, পরিবর্তন অপরিহার্য।”

এ প্রসঙ্গে সাবেক ইংল্যান্ড স্পিনার মন্টি পানেসার বলেন, ইংল্যান্ডের নতুন প্রধান কোচ হওয়া উচিত রবি শাস্ত্রী। তাঁর যুক্তি, “অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিজয়ী কোচ নিয়োগ করতে হবে। মানসিক, শারীরিক ও কৌশলগতভাবে অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা ব্যবহার করতে যিনি জানেন, তিনিই দলের জন্য সেরা। রবি শাস্ত্রী সেই কোচ।”

শাস্ত্রী ভারতের সাবেক কোচ ও ধারাভাষ্যকার। তাঁর অধীনে ভারত ২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছে, যা প্রমাণ করে তিনি আন্তর্জাতিক মাটিতে কৌশলগতভাবে কতটা সফল। সেই সাফল্য ভারতের মাটিতে নয়, বিপক্ষের মাটিতে এসেছে, যা ইংল্যান্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়।

অন্যদিকে, ম্যাককালামের ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটে-বলে সেভাবে পারফর্ম করতে পারেনি। পার্থে প্রথম টেস্ট ২ দিনে হারা, ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্ট ৪ দিনে হারা, এবং অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে ৫ম দিনে হারের সম্মুখীন হলেও কোনও কার্যকর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যায়নি।

অ্যাশেজ ২০২৫ অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ফলাফল:

ম্যাচশহরফলাফল
১ম টেস্টপার্থ২ দিনে হারা
২য় টেস্টব্রিসবেন৪ দিনে হারা
৩য় টেস্টঅ্যাডিলেড৫ম দিনে হারা

ম্যাককালামের অধীনে ইংল্যান্ড ৪৪ টেস্ট খেলেছে—২৫ জয়, ১৭ হারা, এবং ২ ড্র। তবে ২০২৪ সাল থেকে ইংল্যান্ডের টেস্ট জয় (১২) হারের (১৩) তুলনায় কম। পাঁচ ম্যাচের সিরিজেও একটিও জয় নিশ্চিত করতে পারেনি ইংল্যান্ড।

যদি ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সাফল্য চায়, তবে প্রয়োজন এক অভিজ্ঞ কোচ, যিনি মানসিক এবং কৌশলগতভাবে খেলোয়াড়দের গাইড করতে পারেন, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার শক্তি-দুর্বলতা বোঝাতে সক্ষম। পানেসারের মতে, রবি শাস্ত্রী সেই অভিজ্ঞ কোচ।

মূলত, ইংল্যান্ডের সামনে এখন সিদ্ধান্ত: বর্তমান কোচ ও অধিনায়কের সাথে পথ চালিয়ে যাওয়া, নাকি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নতুন কোচকে দায়িত্ব দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় অর্জনের জন্য শাস্ত্রীর মতো একজন কোচই ইংল্যান্ডের দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।