বিগত সোমবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন লেকচারার এবং বিশিষ্ট অনলাইন সক্রিয়তা কর্মী আসিফ মাহতাব ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন, তিনি আসন্ন জাতীয় রেফারেন্ডামে ‘না’ ভোট দেবেন। মাহতাবের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনলাইনে সীমিত সক্রিয়তার কারণে তিনি সরাসরি নাগরিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তবে সম্প্রতি বেশিরভাগ মানুষ তাঁর মতামত জানতে চাওয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানাতে বাধ্য হয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় মাহতাব বলেন, “অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, জুলাই চাটার বিষয়ে আমি ‘হ্যাঁ’ দেব নাকি ‘না’। আমি অনলাইনে বিশেষ সক্রিয় নই, তবে এতবার প্রশ্ন করা হলে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আমি ‘না’ ভোট দেব।”
তিনি তার সিদ্ধান্তের সংক্ষিপ্ত কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। মাহতাব জানান, প্রস্তাবিত জুলাই চাটারের আর্টিকেল ৮৪ অনুযায়ী, এটি পাশ হলে বাংলাদেশ ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে (OGP) যোগদান করবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ কী, এবং আমরা যেসব আন্দোলনের জন্য লড়েছি তার সঙ্গে এর সম্পর্ক কী? আমরা কি OGP-তে যোগদানের জন্য প্রচারণা করেছি?”
মাহতাব আরও উল্লেখ করেছেন, OGP মূলত LGBTQ অধিকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। তিনি বলেন, “যদি জুলাই চাটার অনুমোদিত হয়, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে, এবং নাগরিকদের LGBTQ অধিকার মেনে চলা প্রয়োজন হবে। আমি কখনো এমন উদ্যোগের জন্য প্রচারণা করিনি, এবং অধিকাংশ নাগরিকও করেননি। কিন্তু ভোট পাস হলেই এই প্রক্রিয়াগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।”
তিনি তার সীমিত অনলাইন অংশগ্রহণও স্বীকার করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই সিদ্ধান্ত নেবার মূল কারণ ছিল নাগরিকদের সরাসরি বার্তা। মাহতাব ব্যক্তিগত প্রতিফলন এবং সচেতন পছন্দের গুরুত্বে জোর দিয়েছেন, রেফারেন্ডামের মাধ্যমে নীতি বা সামাজিক এজেন্ডা চাপানোর বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।
নিচের টেবিলে তাঁর মূল বক্তব্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | আসিফ মাহতাবের অবস্থান | মন্তব্য / ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ভোটের সিদ্ধান্ত | ‘না’ ভোট | ব্যক্তিগত নীতির ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত |
| জুলাই চাটারের ধারা | আর্টিকেল ৮৪ | বাংলাদেশকে OGP-তে যোগদানের শর্ত নির্ধারণ করে |
| OGP কার্যক্রম | LGBTQ অধিকার বাস্তবায়ন | পূর্ব আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই |
| অনলাইন সক্রিয়তা | সীমিত | অসংখ্য অনুরোধের পর সিদ্ধান্ত প্রকাশ |
| নীতিভিত্তিক প্রতিক্রিয়া | ব্যক্তিগত মতামত | ভোটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক কার্যকরীকরণের বিরোধী |
মাহতাবের ঘোষণার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা উভয় ক্ষেত্রেই এটি সাড়া ফেলতে পারে। তিনি রেফারেন্ডামে নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশের গুরুত্বে জোর দিয়েছেন এবং সচেতন ও তথ্যভিত্তিক ভোটের প্রয়োজনীয়তা হাইলাইট করেছেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে যে, রেফারেন্ডামকে নীতি প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, বরং এটি হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক, স্বাধীন নাগরিক অংশগ্রহণের এক সুযোগ।
