ডাঃ আসহাব-উল-হক জোয়ার্দ্দার বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক যিনি তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও তৎকালীন কুষ্টিয়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
Table of Contents
আসহাব-উল-হক | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ
ডাঃ আসহাব–উল–হক জোয়ার্দ্দার
(৪ ডিসেম্বর ১৯২১ – ৭ অক্টোবর ২০১০)
চিকিৎসক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক
ডাঃ আসহাব-উল-হক জোয়ার্দ্দার ছিলেন বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং জাতীয় সংসদ সদস্য। চিকিৎসা পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জন্ম ও শিক্ষা
তিনি ১৯২১ সালের ৪ ডিসেম্বর, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের নদীয়া জেলার অন্তর্গত চুয়াডাঙ্গা মহকুমায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আহম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার এবং মাতার নাম হাজেরা খাতুন। ডাক্তারি শিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে এবং সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
চিকিৎসা ও ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ
১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকার মিডফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তিনি চুয়াডাঙ্গায় সচেতনতা গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। একজন চিকিৎসক হয়েও ভাষার প্রশ্নে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন জীবন
- ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে জাতিসংঘে প্রেরিত একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
- স্বাধীনতা-পরবর্তী ১৯৭২ সালে তিনি গণপরিষদের সদস্য মনোনীত হন এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক দায়িত্ব
- ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন কুষ্টিয়া–৭ আসন থেকে নির্বাচিত হন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ–সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।
- তিনি বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন কমনওয়েলথ হিউম্যান ইকোলজিক্যাল কাউন্সিলের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
১৯৭৫ সালের ১৭ আগস্ট তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে সামরিক শাসনামলে ১৯৭৭ সালে সামরিক আদালতে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- ১৯৭৯ সালে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান এবং চিকিৎসা পেশায় ফিরে যান।
- ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ সালের জেলহত্যা যখন ঢাকায় সংঘটিত হয়, তখন তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শী ও জীবিত সাক্ষী ছিলেন।

মৃত্যু
ডাঃ আসহাব-উল-হক জোয়ার্দ্দার ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় তাঁর ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।