আশুলিয়ার ভয়াবহ ছয় লাশ দাহ মামলার রায় আজ

২০২৩ সালের জুলাই–আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ দাহ এবং একজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঘোষণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় প্রকাশ করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর

এই রায়টি ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার মধ্যে তৃতীয় রায়।

গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। মামলায় রাষ্ট্র ও আসামি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম এবং চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমানএস. এম. মিরাজুল আলম আজমান তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন ঢাকার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের তালিকা ও অবস্থান নিচের টেবিলে দেখানো হলো:

নামপদবী / দায়িত্বঅবস্থা
মো. আব্দুল্লাহিল কাফীসাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ঢাকা জেলাগ্রেপ্তার
মো. শাহিদুল ইসলামসাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল), ঢাকা জেলা পুলিশগ্রেপ্তার
মো. আরাফাত হোসেনপরিদর্শকগ্রেপ্তার
আবদুল মালেকএসআইগ্রেপ্তার
আরাফাত উদ্দিনএসআইগ্রেপ্তার
কামরুল হাসানএএসআইগ্রেপ্তার
শেখ আবজালুল হকপুলিশ কর্মকর্তাগ্রেপ্তার, দোষ স্বীকার করেছেন
মুকুল চোকদারকনস্টেবলগ্রেপ্তার
সাইফুল (সাবেক এমপি) সহ ৮ জনপলাতক

মামলায় ২০২২ সালের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং সেই সময় আদালতে উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন এবং রাজসাক্ষী হয়ে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

এই মামলার রায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আশা করা হচ্ছে রায় ঘোষণার পর মামলার সকল আসামি ও পরিবার এবং সাধারণ জনগণ এই সিদ্ধান্তের প্রতি নজর রাখবেন এবং এটি দেশের বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাস স্থাপন করবে।