আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করল যুক্তরাষ্ট্র

সিরিয়ার পালমিরা এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী শুক্রবার এক আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নেতাকে হত্যা করেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করে। নিহত ব্যক্তি বিলাল হাসান আল-জসিম, যিনি ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস)-এর এক বন্দুকধারীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগযুক্ত ছিলেন।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সিরিয়ার পালমিরাতে সংঘটিত হামলায় তিন মার্কিন নাগরিকসহ একাধিক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছিল। ওই হামলার সঙ্গে জড়িত বন্দুকধারীর সঙ্গে আল-জসিমের সরাসরি সংযোগ ছিল। এই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনী সিরিয়ায় একের পর এক অভিযান চালাতে থাকে।

মার্কিন সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বিবৃতিতে বলেন, “এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে, আমাদের বাহিনীর ওপর যারা হামলা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শূন্যে নামাতে কোনও ছাড় দেব না।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, “আমরা কখনো ভুলবো না এবং কখনো থামবো না। যারা আমাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সক্রিয় থাকব।”

সিরিয়ায় ১৩ ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন বাহিনী শতাধিক আইএসআইএস লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানগুলোর লক্ষ্য শুধুমাত্র সন্ত্রাসী নেতৃত্বকে নির্মূল করা নয়, বরং আইএসআইএস ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে কার্যত শূন্যে নামানো।

সিরিয়ায় মার্কিন হামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য:

তারিখলক্ষ্যবস্তুহামলায় নিহতমন্তব্য
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫পালমিরা, সিরিয়া৩ মার্কিন নাগরিক নিহতহামলার সঙ্গে জড়িত বন্দুকধারী ছিল আল-জসিমের সংযোগে
১৭ জানুয়ারি ২০২৬সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকাআল-কায়েদা নেতা নিহতমার্কিন সেন্টকমের অভিযানে নিহত
ডিসেম্বর–জানুয়ারিসিরিয়ার আইএসআইএস নেটওয়ার্কশতাধিক আইএস সদস্যসিরিয়ায় একের পর এক অভিযান চালানো হচ্ছে

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই হত্যাযজ্ঞ মার্কিন বাহিনীর জন্য জঙ্গি নেতাদের কার্যক্রম দমন করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তারা বলেন, “আইএসআইএস ও আল-কায়েদা গোষ্ঠীর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সামরিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমানো সম্ভব।”

এই হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কিত বিশ্লেষকরা গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনীর এই কৌশল শুধু নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী নেতা নির্মূল করেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও বহন করছে।