আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও সিম্যাক্সের কৃষি অংশীদারিত্ব ঘোষণা

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শারিয়াহ-সম্মত ব্যাংক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি সিম্যাক্স লিমিটেডের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে প্রবেশ করেছে। এই উদ্যোগ মূলত দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, অংশীদারিত্বটি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

এই চুক্তি দুই সংস্থার মধ্যে একটি সংগঠিত কাঠামো স্থাপন করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য যৌথ সহায়তা প্রদান করা হবে। অংশীদারিত্বের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:

  • ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি

  • আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার প্রসারিত করা

  • আর্থিক সহায়তা প্রদান

  • বাজারে প্রবেশ সহজ করা

মোটকথা, এই উদ্যোগ গ্রামীণ কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যা দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত

MoU স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সদর দপ্তরে। ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস.এম. আবু জাফর এবং সিম্যাক্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিরণ নাহার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে উভয় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করেছে। প্রধান অতিথি ও কর্মকর্তাদের তালিকা নিম্নরূপ:

নামপদবীপ্রতিষ্ঠান
শামসুল আলমপরিচালকসিম্যাক্স লিমিটেড
মনিরুল ইসলামসিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এসএমই ব্যবসা প্রধানআল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
মাহমুদ রিয়াদভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান, গ্রামীণ উন্নয়ন প্রোগ্রামআল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি
এম.এম. রফিকুল ইসলামসিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্টআল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, আর্থিক সাক্ষরতা প্রোগ্রাম এবং বাজার সংযোগ সুবিধা পাবেন। অনুষ্ঠানকালে এস.এম. আবু জাফর বলেন,

“গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা স্থানীয় সম্প্রদায়কে ক্ষমতায়ন ও কৃষক আয় বৃদ্ধিতে কাজ করছি।”

হিরণ নাহার আরও যোগ করেন,

“সিম্যাক্স লিমিটেড টেকসই কৃষিতে বিশ্বাসী। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ।”

এই সহযোগিতা ব্যাংকিং দক্ষতা ও কৃষি উদ্যোগের সমন্বয়ের একটি আদর্শ উদাহরণ। যৌথভাবে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা এবং ফসলের বাজার সংযোগের মাধ্যমে অংশীদারিত্বটি দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে।

ফলে, এই চুক্তি বাংলাদেশের কৃষি খাতের স্থায়িত্ব, উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বৃদ্ধিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।