আল-আকসা মুসলিম নামাজে প্রবেশ সীমিত

অধিকৃত জেরুজালেমের ঐতিহাসিক মসজিদুল আকসা শনিবার রাতে মুসল্লিদের জন্য এশা ও তারাবি নামাজ আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদার পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরান হামলার পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার অজুহাতে নেওয়া হয়েছে। এটি রমজানের ১১তম দিনে মুসল্লিশূন্য মসজিদের একটি অনন্য দৃশ্য সৃষ্টি করেছে, যা অনেকের মনে ২০২০ সালের মহামারিকালে বন্ধ রাখা আল-আকসার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

নামাজে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা

ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, মসজিদে এশার নামাজে অংশ নিতে পেরেছেন কেবল ইমাম শায়খ ইউসুফ আবু আসনাইনা, পরিচালক শায়খ ওমর আল-কিসওয়ানি এবং অল্প কয়েকজন ওয়াক্ফ কর্মী। সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি রমজান মাসে প্রতিদিন ৩৫,০০০ থেকে এক লাখ মুসল্লি তারাবি নামাজে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে শনিবারের জরুরি অবস্থার কারণে সব নামাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, তথাকথিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে হোম ফ্রন্ট কমান্ড পুরো রমজানজুড়ে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

জরুরি অবস্থার প্রভাব

জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড দেশজুড়ে কেবল প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত

  • জনসমাগম নিষিদ্ধ

  • জরুরি খাত ছাড়া কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ

এই নির্দেশনা আল-আকসা মসজিদেও প্রযোজ্য হয়েছে, যদিও মসজিদটির প্রশাসন জর্ডানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওয়াক্ফ বিভাগের হাতে রয়েছে।

মুসল্লি ও ওয়াক্ফ কর্মীদের প্রভাব

শনিবার জোহরের আজানের আগে স্থানীয় ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের মুসল্লিদের মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয়। ওয়াক্ফ কর্মীদেরও সরে যেতে বাধ্য করা হয় এবং শুধুমাত্র প্রহরীদের উপস্থিতি অনুমোদিত ছিল। পরে দখলদার পুলিশের নির্দেশে মসজিদের ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রমজান ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি

জেরুজালেম বিষয়ক গবেষক জিয়াদ ইভহাইস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “রমজানে আল-আকসা বন্ধ করা একে এককভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ এবং মসজিদটির ওপর কথিত ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। এটি চুপচাপ মেনে নেওয়া যায় না এবং সম্ভাব্য সব উপায়ে মোকাবিলা করতে হবে।”

মুসলিমদের জন্য গুরুত্ব

আল-আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা এবং ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। রমজানে এখানে মুসল্লিদের ঢল নামে। হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞা নতুন করে উদ্বেগ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি করেছে।

শনিবারের নামাজ বন্ধ সংক্রান্ত তথ্য

বিষয়তথ্য
বন্ধ নামাজএশা ও তারাবি
অনুমোদিত ব্যক্তিইমাম, পরিচালক, অল্প ওয়াক্ফ কর্মী
সাধারণ মুসল্লিপ্রবেশ নিষিদ্ধ
মুসল্লির সংখ্যা (রমজানজুড়ে)৩৫,০০০ – ১,০০,০০০
জরুরি অবস্থা প্রভাবশিক্ষা স্থগিত, জনসমাগম নিষিদ্ধ, মসজিদ প্রবেশ সীমিত
মসজিদ প্রশাসনজর্ডানের তত্ত্বাবধানে ওয়াক্ফ বিভাগ

শনিবারের এই পদক্ষেপ মুসলিম বিশ্বের মধ্যে তীব্র নাড়া সৃষ্টি করেছে এবং রমজান মাসে পবিত্র স্থানসমূহে ইসলামের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।