আল-আকসা বন্ধে মুসলিম বিশ্ব নিন্দা প্রকাশ

মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘটনায় এই প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও ঘটনাটি “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি গুরুতর আঘাত” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বুধবার (১১ মার্চ) প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ ও উপাসনালয়ে সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ধর্মীয় স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকারের নীতির সরাসরি লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শারিফ এলাকায় ইসরায়েলের পদক্ষেপ “সম্পূর্ণ অবৈধ ও অযৌক্তিক” এবং তারা এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রতি “পূর্ণ প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা” প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রীরা জোর দিয়েছেন, দখলকৃত জেরুজালেম বা সেখানকার ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসা বিষয়ক দপ্তরকে জর্ডানের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এই স্থানের বৈধ ও একমাত্র প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইসরায়েলকে অবিলম্বে মসজিদের ফটক খোলা, পুরোনো শহরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের ইবাদতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও ইসরায়েলের চলমান লঙ্ঘন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পুরোনো শহরে প্রবেশ ও ইবাদতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছেন, আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফাও এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় হস্তক্ষেপ ছাড়া ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়।

নিচের টেবিলে মুসলিম দেশগুলোর নাম ও অবস্থান তুলে ধরা হলো:

দেশঅবস্থান
কাতারমধ্যপ্রাচ্য
জর্ডানমধ্যপ্রাচ্য
ইন্দোনেশিয়াদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া
তুরস্কমধ্যপ্রাচ্য/ইউরোপ সংযোগ
পাকিস্তানদক্ষিণ এশিয়া
সৌদি আরবমধ্যপ্রাচ্য
মিসরউত্তর আফ্রিকা
সংযুক্ত আরব আমিরাতমধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের এই যৌথ প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে আলোচনার বিষয় করে তুলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় স্থিতিশীলতার জন্য নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।