পাকিস্তান নৌবাহিনী ও চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি নেভির যৌথ সামুদ্রিক মহড়া ‘সি গার্ডিয়ান-৪’ সম্প্রতি সফলভাবে শেষ হয়েছে। এই মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, কৌশলগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাকিস্তানের সামরিক তথ্যসূত্র এবং সংবাদমাধ্যম আইএসপিআর জানিয়েছে, মহড়াটি ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহড়াটি দুইটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায় ‘পোর্ট ফেজ’, যা করাচি বন্দরে পাঁচ দিন স্থায়ী। এই পর্যায়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, আনুষ্ঠানিক স্বাগত, পেশাগত আলোচনা এবং বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করে। দ্বিতীয় পর্যায় ‘সি ফেজ’ ছিল উত্তর আরব সাগরে দুই দিনের যৌথ সামরিক অনুশীলন, যেখানে দুই নৌবাহিনীর কৌশলগত সমন্বয় ও যৌথ কার্যক্রম পরীক্ষা করা হয়।
করাচি বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজকে পিএনএস তাইমুর দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। পোর্ট ফেজের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নৌকৌশল, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
সি ফেজে দুই নৌবাহিনীর যৌথ টহল, লক্ষ্য নির্ধারণ, কৌশলগত অনুশীলন এবং সামরিক সমন্বয় আরও উন্নত করা হয়। মহড়ার সমাপ্তি আরব সাগরে যৌথ টহলের মাধ্যমে হয়, যা দুই দেশের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
নিচের টেবিলে মহড়ার মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| মহড়ার নাম | সময়কাল | স্থান | প্রধান কার্যক্রম |
|---|---|---|---|
| সি গার্ডিয়ান-৪ | ২৫ মার্চ – ১ এপ্রিল | করাচি বন্দর ও আরব সাগর | পোর্ট ফেজ: নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, আলোচনাসভা, সেমিনার; সি ফেজ: যৌথ টহল ও কৌশলগত অনুশীলন |
| পোর্ট ফেজ | ২৫–২৯ মার্চ | করাচি বন্দর | আনুষ্ঠানিক স্বাগত, নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, পেশাগত আলোচনা, সেমিনার আয়োজন |
| সি ফেজ | ৩০–৩১ মার্চ | উত্তর আরব সাগর | যৌথ টহল, কৌশলগত অনুশীলন, সামরিক সমন্বয় উন্নয়ন |
মহড়ার শেষ দিনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষ যৌথ টহল সম্পন্ন করে। এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান ও চীনের নৌবাহিনীর কৌশলগত সমন্বয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও দৃঢ় হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের যৌথ মহড়া দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সি গার্ডিয়ান-৪ মহড়া দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার প্রতি অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
