গ্রাম-শহর নির্বিশেষে আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ এবং গ্যাস আমাদের জন্য অপরিহার্য। তবে এবার সতর্ক থাকতে হবে: যদি কোনো করদাতা ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা না দেন, তবে কর কর্মকর্তাদের কাছে রাষ্ট্রীয় পরিষেবা সংযোগ—যেমন বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি—বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে।
কোণসকল কর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে?
২০২৫–২৬ অর্থবছরের আয়কর নির্দেশিকায় পাঁচটি প্রধান ব্যবস্থা উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো: জরিমানা আরোপ, কর অব্যাহতি কমানো, অতিরিক্ত কর আরোপ, পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং বেতন–ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতা।
নিচের টেবিলে এ বিষয়গুলো সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| ক্রমিক | ব্যবস্থার ধরন | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ১ | জরিমানা আরোপ | রিটার্ন না দিলে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০% জরিমানা, সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা। আগের কর নির্ধারণ নেই, এমন ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা। ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা। |
| ২ | কর অব্যাহতি কমানো | নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বিনিয়োগ বা কর অবকাশসহ কর ছাড়ের সুবিধা বাতিল হতে পারে। |
| ৩ | অতিরিক্ত কর | প্রতি মাসে ধার্যকৃত করের ওপর ২% অতিরিক্ত কর দিতে হবে। |
| ৪ | পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন | বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা রয়েছে। |
| ৫ | বেতন–ভাতা জটিলতা | সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতার প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। |
রিটার্ন জমার যোগ্যতা ও সময়সীমা
কর শনাক্তকরণ নম্বরধারীদের (টিআইএন) মধ্যে যারা বছরে ৩,৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি আয় করে, অথবা যাদের জন্য রিটার্ন বাধ্যতামূলক, তাদের অবশ্যই বার্ষিক রিটার্ন জমা দিতে হবে। এছাড়া ৩৯ ধরনের সরকারি সেবা নেওয়ার সময় রিটার্নের প্রমাণ দেখাতে হয়।
ব্যক্তিগত করদাতারা সাধারণত ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এ বছর সময় সীমা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে। সকলকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হবে, ঠিকানা: **www.etaxnbr.gov.bd**। তবে পাঁচ বিশেষ শ্রেণির করদাতাকে অনলাইন জমা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ১ কোটি ১৫ লাখ টিআইএনধারী আছে। এ পর্যন্ত ৩১ লাখ করদাতা তাঁদের রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কর কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা: রিটার্ন না দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
