“আমেরিকা ফার্স্ট না ইসরায়েল?”—ইরানি নিরাপত্তা প্রধানের মন্তব্য

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে “উচ্চ মূল্য” দিতে হবে। সম্প্রতি তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলার পর লারিজানি স্পষ্ট প্রশ্ন ছুড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে—“এখনও কি আমেরিকা প্রথম নাকি ইসরায়েল?”

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারিজানি তাঁর এক্স-এ প্রকাশিত পোস্টে বলেছেন, “ট্রাম্প, আপনি আমেরিকান জনগণকে ইরানের সঙ্গে অন্যায় যুদ্ধে টেনে এনেছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব ও ভাড়ামো আচরণ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।” তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, কে মূল দায়িত্বশীল—আমেরিকা নাকি ইসরায়েল?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ২৮ ফেব্রুয়ারি আঘাতের পর থেকেই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওই দিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন, যাকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনা এখনও চলমান।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, “ইসরায়েল যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সম্পর্কে আমরা আগেই অবগত ছিলাম। ইরানের সম্ভাব্য হামলার মুখে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষায় আমাদের আগাম আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন হয়েছিল।”

এই সংঘাতের ধারাবাহিকতা বোঝার জন্য আমরা সাম্প্রতিক হামলা ও ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত টেবিল প্রস্তুত করেছি:

তারিখঘটনাদায়ী পক্ষফলাফল/পরিস্থিতি
২৮ ফেব্রুয়ারিআয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহতযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলতেহরানসহ ইরানজুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা বৃদ্ধি
২৮ ফেব্রুয়ারি-৫ মার্চইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলাঅজানানিরাপত্তা বৃদ্ধি, সেনা মোতায়েন
৫ মার্চমার্কো রুবিও মন্তব্যযুক্তরাষ্ট্রইরানের সম্ভাব্য প্রতিরোধ মোকাবিলায় আগাম পদক্ষেপ

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক সীমাবদ্ধ নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। ইরান স্পষ্টভাবে ইসরায়েলকে দায়ী করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও মূল স্থায়ী হুমকির জায়গায় রাখছে।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের এই কঠোর বার্তা এবং উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক কূটনীতি বিশ্বমঞ্চে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই, নইলে সম্ভাব্য সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।