দিনের শুরুতে গভর্নর হিসেবে নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হন। তবে সকাল গড়াতেই হঠাৎ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার অপসারণ সংক্রান্ত খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর নিয়োগের সম্ভাব্য খবরও প্রচার হতে থাকে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। পরিস্থিতির এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই ড. মনসুর হঠাৎ করেই কার্যালয় ত্যাগ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা না করেই অফিস ত্যাগ করেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদটি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন একটি পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা ব্যাংকিং খাত, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ ধরনের গুজব বা অস্পষ্ট তথ্য দ্রুত নিরসন করা জরুরি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণ সাধারণত সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং তা আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়। কিন্তু এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা না থাকায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
নিচে ঘটনাপ্রবাহের একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো:
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| সকাল | গভর্নরের নিয়মিতভাবে কার্যালয়ে উপস্থিতি |
| সকাল-দুপুর | অপসারণ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে |
| দুপুর | নতুন গভর্নর নিয়োগের গুঞ্জন শুরু |
| আনুমানিক ২:৩০ | গভর্নরের পদত্যাগ না করার ঘোষণা |
| এরপর | গভর্নরের হঠাৎ কার্যালয় ত্যাগ |
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা করছেন ব্যাংক কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ। বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না হলে আর্থিক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
