ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভীক কণ্ঠে কথা বলার শক্তিই তাঁর রাজনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। ক্ষমতার চাপ, ভয়ভীতি কিংবা রাজনৈতিক সুবিধাবাদ—কোনোটির কাছেই তিনি মাথা নত করবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কুচনি বুড্ডা গ্রামে নির্বাচনী গণসংযোগকালে স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন,
“পাঁচ বছর যদি চোখ রাঙাইয়া হাসিনার কাছ থেকে চলে আসতে পারি, তাইলে আর কোনো বাপের বেটা নাই—যে আমারে থামাইতে পারে।”
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এখন অনেক জায়গায় রাজনীতিতে প্রার্থী ‘ভাড়া’ করার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ব্যঙ্গাত্মক কণ্ঠে তিনি উল্লেখ করেন,
“এখন মানুষকে জিজ্ঞেস করা হয়—ধান না খেজুর গাছ? ক্ষমতায় গেলেই চান্দাবাজি আর ধান্দাবাজি করে দুই মাসে ২০০ কোটি টাকা কামাইতে হবে—এটা কি কোনো সুস্থ রাজনীতির পরিচয়?”
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যবসা দখল, অবৈধ বালু উত্তোলন, জমি দখল, মাঠি ভরাট এবং মামলা বাণিজ্যের মতো কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এসব অনৈতিক ও অবৈধ কাজ রাজনীতিকে কলুষিত করছে এবং সাধারণ মানুষকে রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রুমিন ফারহানা বলেন,
“আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি—চান্দাবাজি, জমি দখল আর মামলা বাণিজ্য বন্ধ করেন। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, সত্য কথা বলব। যে অন্যায় করবে, তার বিরুদ্ধেই কথা বলব—সে যেই হোক, যত ক্ষমতাবানই হোক।”
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এতে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদসহ তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কার সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন এবং নিজেকে একজন “ভয়হীন, আপসহীন ও দুর্নীতিবিরোধী” প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর স্পষ্টভাষী বক্তব্য ও সাহসী অবস্থান নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যছক
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আসন | ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ |
| এলাকা | সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ |
| প্রার্থী | ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা |
| রাজনৈতিক পরিচয় | বিএনপির সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক |
| বর্তমান অবস্থান | স্বতন্ত্র প্রার্থী |
| বিএনপি জোট প্রার্থী | আল্লামা জুনায়েদ আল হাবিব |
| দলীয় ব্যবস্থা | ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি থেকে বহিষ্কার |
